নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেল নামতেই ঘনিয়ে এল অন্ধকার। ঘন কালো মেঘে ঢাকল শহর। আচমকা ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, সঙ্গে দমকা হাওয়া। যার জেরে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন সাধারণ মানুষ। ঘণ্টাখানেকের প্রবল বৃষ্টিতে জল জমে যায় শহরের বেশ কিছু অংশে। অবশ্য সন্ধ্যার আগেই অনেক জায়গা থেকে জল নেমে গিয়েছে বলে খবর। তবে উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া সহ জোড়াসাঁকোর বিভিন্ন রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ জল দাঁড়িয়েছিল। এদিকে বৃষ্টির জেরে বিঘ্নিত হয় শিয়ালদহ দক্ষিণ এবং মেইন শাখার ট্রেন পরিষেবাও।
কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে দক্ষিণের তুলনায় উত্তরে বৃষ্টি বেশি হয়েছে। যার জেরে এই অংশে জলছবির দেখা মেলে। সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বেলগাছিয়ায়। সেখানে ৯৬ মিমি, উল্টোডাঙ্গায় ৭০ মিমি, দত্তবাগানে ৬৮ মিমি, মানিকতলা ও বীরপাড়ায় ৬৩ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। পুর আধিকারিকদের দাবি, ওই অঞ্চলে ঋষিকেশ পার্কে নতুন নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরি হচ্ছে। এই কারণে পাইপলাইন পাতার কাজ চলছে। কোথাও রাস্তাও কাটা হয়েছে। ফলে ওই অংশে জমা জলের দুর্ভোগ এখনও রয়ে গিয়েছে। নতুন পাম্পিং স্টেশন চালু হয়ে গেলে ওই এলাকায় আর জমা জলের সমস্যা থাকবে না। অন্যদিকে গড়িয়াহাট, কনভেন্ট রোড, এক্সাইড মোড়, যোধপুর পার্ক, ইএম বাইপাসের কিছু অংশে রাস্তার ধারে জমা জলের দেখা মিলেছে। তবে সেই অর্থে বানভাসি হয়নি শহর। আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পৌঁনে ৫টা নাগাদ কলকাতার উপর দিয়ে ৬০ কিমি বেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে। তার জেরেই শিয়ালদহ মেইন লাইনে রেল চলাচল বিঘ্নিত হয়। জানা গিয়েছে, এদিন বিকাল সাড়ে চারটে বিভিন্ন জায়গায় ট্রেন দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। রেল জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও কোনো ট্রেন বাতিল করা হয়নি। ফলে ওই লাইনের বিভিন্ন স্টেশনে ভিড় জমে যায় যাত্রীদের। ট্রেনগুলি দেরিতে চলায় ঠাসাঠাসি ভিড় হয়। স্বাভাবিক কারণেই অফিস টাইমে বাড়ি ফেরার পথে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের।
এদিকে বিকাল ৪টে ৪৮ মিনিট থেকে ৫টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত রেল পরিষেবা কার্যত বন্ধ ছিল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায়। ঝড়ের জেরে কোথাও কোথাও ওভারহেড তারে গাছের ডাল পড়ে যাওয়ায় ট্রেন পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের।