Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বিরাট-সল্টের ব্যাটে দুরমুশ নাইটরা

সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। কালো মেঘের দোসর বৃষ্টি। বেলা গড়াতেই অন্য ছবি। আবেগের কাছে হার মানল বরুণদেব।

বিরাট-সল্টের ব্যাটে দুরমুশ নাইটরা
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৮:০৩
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। কালো মেঘের দোসর বৃষ্টি। বেলা গড়াতেই অন্য ছবি। আবেগের কাছে হার মানল বরুণদেব। দিন বদলের গান শোনা গেল ইডেনেও। প্রতিপক্ষ আরসিবি মানেই তো নাইটদের জয়ের উপসংহার লিখে ফেলা। এবার পালাবদল দেখল তিলোত্তমা, বিরাটের ব্যাটে। ইডেনে কেকেআরকে ৭ উইকেটে হারিয়ে আইপিএল অভিযান শুরু করল আরসিবি। ২২ বল আগেই ম্যাচ জিতল গার্ডেন সিটির দল।

Advertisement

শনিবারের ইডেন শুধুই কিং কোহলির। ক্রিকেট দেবতাও  জনতার আকুল প্রার্থনাকে উপেক্ষা করতে পারেননি।  শাহরুখ যখন মঞ্চে ডাকলেন কোহলিকে ‘ঝুমে জো পাঠান’-র তালে কোমর দোলাতে, তখন ইডেনের আকাশে তৈরি হল আরসিবি...আরসিবি... শব্দব্রহ্ম। এ কীসের ইঙ্গিত! বাদশার উপর অনাস্থা। বাঙালি ক্রিকেটারদের দলে না রাখার জন্য কেকেআরের প্রতি কি তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ?, কে জানে! তবে বোঝা গিয়েছিল, কী চাইছেন দর্শকরা। বিরাট হতাশ করেননি। মঞ্চে ও মাঠে—দু’টোতেই সফল তিনি। ব্যাট হাতে দলকে জেতালেন।  না পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণাই যেন ব্যাটে বিস্ফোরণ ঘটাল। এই মাঠে ৪৯ রানে অল-আউটের লজ্জা, গত দুই মরশুমে কেকেআরের কাছে বার বার হারের বদলা নিল আরসিবি। 
আইপিএল শুধু মাঠের খেলা নয়, মস্তিষ্কেরও। গত সতেরো বছরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দুর্দান্ত স্কোয়াড সাজিয়েছেন আরসিবি কর্তারা। লখনউ থেকে ৫.৭৫ কোটি দিয়ে তুলে নেওয়া স্পিন অলরাউন্ডার ক্রুণাল পান্ডিয়া হোক কিংবা কেকেআরের প্রাক্তনী সল্টের জন্য ১১.৫০ কোটি খরচ করা পুষিয়ে গেল প্রথম ম্যাচেই।  সল্টের ঝোড়ো ৩১ বলে ৫৬ রানই  ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দেয়। অনেকটা চাপমুক্ত হয়ে খেলার সুযোগ পান কোহলি। সেই সঙ্গে বরুণের সঙ্গে ডুয়েলেও বাজিমাত করলেন তিনি। সল্ট আউট হওয়ার পর কোহলি কিন্তু তাড়াহুড়ো করেননি। ৩০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন। ম্যাচ শেষে কোহলি অপরাজিত ৫৯। 
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ডি’ককের উইকেট হারিয়েও দুরন্ত কামব্যাক করেছিল কেকেআর। নেপথ্যে দুই বর্ষীয়ান ক্রিকেটার অজিঙ্কা রাহানে ও সুনীল নারিন। মনে হচ্ছিল, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে রোমাঞ্চ সঞ্চারের চেষ্টা চলছে রাহানের ব্যাটে। তিন ওভার শেষে ইডেনের স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছিল কেকেআর ৯ রানে ১ উইকেট। পাওয়ার প্লে’তে ফিল্ড রেস্ট্রিকশনের সুযোগ নিয়ে পরের তিন ওভারে রাহানেরা যোগ করলেন ৫১ রান। স্কোর দাঁড়াল ৬১/১।  ওভার পিছু ১০, সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে রাহানে-নারিন রীতিমতো ত্রাসের সঞ্চার ঘটিয়েছেন আরসিবি শিবিরে। কেকেআরের স্কোর আড়াইশোর ঘরে পৌঁছে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু রশিক সালামের বলে নারিন (৪৪) কট বিহাইন্ড হতেই দ্রুত বদলে গেল ম্যাচের রং। ক্রুণাল পান্ডিয়া ফেরালেন ক্যাপ্টেন রাহানেকে (৫৬)। মহামূল্যবান  বেঙ্কটেশ আয়ার সুপার-ফ্লপ। রিঙ্কু, রাসেলদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী মিডল করিডরও হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল স্পিনের চাপে। ‘ম্যাচের সেরা’ ক্রুণাল ২৯ রান দিয়ে নিলেন ৩ উইকেট। সুয়াশ শর্মার গুগলিতে বোল্ড হলেন রাসেল। একা রঘুবংশী (৩০) কিছুটা লড়লেও ১৭৪ রানে থামল কেকেআর। ছন্দে থাকা কোহলিদের তা টপকাতে সমস্যা হয়নি। গম্ভীরের ক্রিকেট মস্তিষ্কের অভাব তাতেই ধরা পড়ল কুৎসিতভাবে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: কলকাতা ১৭৪-৮ (রাহানে ৫৬, নারিন ৪৪, ক্রুণাল ৩-২৯)। বেঙ্গালুরু ১৬.২ ওভারে ১৭৭-৩ (কোহলি অপরাজিত ৫৯, সল্ট ৫৬, নারিন ১-২৭)।    কলকাতা ৭ উইকেটে জয়ী    ম্যাচের সেরা ক্রুণাল পান্ডিয়া।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ