নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। পুলিশ অফিসারের ছেলে হয়েও নিজের চেষ্টায় গড়ে তুলেছেন এক বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তিনি এখন সফল প্রশাসকও। দুর্গাপুরের চওড়া রাস্তা, পাড়ার মোড়ে মোড়ে সৌন্দর্যায়েনর কৃতিত্ব তাঁরই। কিন্তু এর বাইরেও তাঁর কে পরিচয় হল, তিনি একজন গায়ক। তাই কোনো উদ্বোধন অনুষ্ঠান হোক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দু’ কলি গান তাঁকে গাইতেই হয়। এহেন কবি দত্তকেই এবার দুর্গাপুর পশ্চিমে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দশ বছর পর এই আসনে জয় পেতে গান দিয়েই কর্মীদের উজ্জীবিত করতে চাইছেন তিনি।
দুর্গাপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধান্ডাবাগ। কমিউনিটি হলে মেঝেয় বসে গান ধরেছেন ‘ইউ শ্যাল ওভার কাম...’। মেঝেতে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের প্রার্থী গান করছেন আর সেই গানের সুর মেলাচ্ছেন নেতা থেকে কর্মী। রাজনীতির গুরুগম্ভীর আবহে এক ঝলক মুক্ত বাতাস বইয়ে দিল সেই গান। উজ্জীবিত কর্মীরা প্রার্থীকে জেতানোর শপথ নিলেন। কবির কথায় তাঁর পছন্দের গান মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি...’। কর্মীদের কাছে টানতে সেই গানও গাইছেন। গান কি শুধু ভালোবাসা দেয়, না গান প্রতিবাদের ভাষাও। তাই তো দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রী মুখে গোবর দেওয়ার প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে গিয়ে বলে উঠেন, ‘ভয় নেই মা... আমরা শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি...।’
কবি দত্তর কাছে এই আসন জয় এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ২০১১ সালের পর এই আসনে তৃণমূল জেতেনি। ২০১৬ সাল ও ২০২১ সালে যথাক্রমে অপূর্ব মুখোপাধ্যায় ও বিশ্বনাথ পাড়িয়াল দুই তৃণমূল প্রার্থী পরাজিত হন। দু’ জনই দুর্গাপুরের দুঁদে রাজনীতিবিদ। এই পরাজয়ের পিছনে অন্তর্ঘাতকেই অনেকে বড় করে দেখেন। অনেকেরই অভিযোগ, দলের বিধায়ক থাকলে স্থানীয় নেতাদের মৌরুসিপাট্টা চলে যায়। সেই কারণেই বহু ‘ধান্দাবাজ’ নেতা দলের প্রার্থীকে হারিয়ে দেয়। অন্তর্ঘাত থেকে আসনটিকে দূরে রাখতে তৃণমূল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বাইরে থাকা কবি দত্তকে প্রার্থী করেছে। শাসক দল মনে করছে, কবি সব গোষ্ঠীকে এক করে চলতে পারবে। সেক্ষেত্রে গানের থেকে বড় মিলনসূত্র কীই বা হতে পারে। কবি দত্ত জয়ের জন্য জোর দিয়েছেন কর্মী সম্মেলনের উপর। প্রতি ওয়ার্ডেই গিয়েই সম্মেলন হচ্ছে। ভালোবাসার গান হচ্ছে। সম্মেলনে শুধু কবি নন, গান গাইছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা জেলা সভাপতি অসীমা চক্রবর্তী। তাঁর নিজের তৈরি প্যারোডি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এবার বিজেপি প্রচারে বেরিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, বিজেপি সরকারে এলে ৩ হাজার টাকা পাবে বাড়ির মেয়েরা, বাড়ি তৈরি জন্য টাকা পাবে। পাল্টা অসীমা চক্রবর্তী সুর করে গাইছেন, ‘আ গ্যায়া জুমলাবালা, ঝুট কা ঝোলি লেকে আ গ্যায়। না নকরি দিয়া, না মকান দিয়ে দিয়া স্রিফ জুমলা দিয়া...।’ বসে নেই বিজেপি এই আসনের বিজেপি প্রার্থীও। ২০২১ সালে এই আসনে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। এবার ফের তাঁকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার করছেন তিনি। বিজেপি সরকার এলে কর্মসংস্থান করা, নতুন শিল্প গড়ার আশ্বাস দিচ্ছেন লক্ষণ। আসন ধরে রাখতে আশাবাদী তিনিও।