নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুর্গাপুরে জন্ডিসের প্রকোপে শোরগোল পড়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, দুর্গাপুরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিবাজার ও পাড়দই এলাকায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০জন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তের বেশিরভাগের বয়স ১৬’র নীচে। নাবালক-নাবালিকাদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় অভিভাবক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, দুর্গাপুরে জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। পুরসভা ও স্বাস্থ্যদপ্তর এলাকায় বিশেষ শিবির করেছে। শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তর ওই এলাকায় বিশেষ শিবির করে। ৫৪জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রক্তের নমুনা সোমবার স্কুল অফ ট্রাপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হবে। তবে কয়েকটি নমুনা স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানো হয়। শনিবার বিকেলে তার রিপোর্ট আসতেই জানা যায়, আক্রান্তরা হেপাটাইটিস-‘এ’তে আক্রান্ত। যা জলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য এলাকায় গিয়ে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষার জন্য নাইসেডে পাঠানো হচ্ছে। ২মার্চ থেকে ওই এলাকার নাবালক-নাবালিকাদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বেশ কয়েকদিন পর বিষয়টি পুরসভা ও স্বাস্থ্যদপ্তরের নজরে আসে। তারপরই নজরদারি শুরু হয়। সেইসঙ্গে এলাকায় স্বাস্থ্যশিবির করে রক্তের পাশাপাশি জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের নিজস্ব পরিকাঠামোয় টেস্ট করে দেখা হয়, রোগীরা হেপাটাইটিস বি, সি বা ডিতে আক্রান্ত কিনা। কিন্তু হেপাটাইটিস এ ও ই পরীক্ষার পরিকাঠামো জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে নেই। তাই আদৌ রোগীদের কী হয়েছে, তা জানতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কিছু নমুনা পাঠানো হয়। তাতেই দেখা যায়, তারা হেপাটাইটিস-এ-তে আক্রান্ত।



