Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তথ্য যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত বিচারক, থমকে দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলা, সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ

এসআইআরের প্রভাব এবার এসে পড়ল দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলাতেও। বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। নথি যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন এই মামলার বিচারক লোকেশ পাঠকও।

তথ্য যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত বিচারক, থমকে দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলা, সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এসআইআরের প্রভাব এবার এসে পড়ল দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলাতেও। বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। নথি যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন এই মামলার বিচারক লোকেশ পাঠকও। যার জেরে দুর্গাপুর গণধর্ষনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। যে গতিতে মামলা তদন্ত ও শুনানি চলছিল, তাতে অনেকেই আশা করেছিলেন যে, এই অপরাধের দ্রুত বিচার হবে। এখন বিচারকের অনুপস্থিতিতে সেই মামলাও কি বিশবাঁও জলে চলে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিচারকরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে বিভিন্ন মামলায় প্রভাব পড়ছে। হয়রানির প্রবল সম্ভাবনা বিচারপ্রার্থীদের। এই হয়রানির দায় তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের দিকে ঠেলছে। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যদি কোনো যোগ্য মানুষের নাম বাদ যায় তাঁর দায় মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করেননি বলেই বিচার বিভাগকে এই কাজে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। দুর্গাপুর গণধর্ষণের মতো মামলা থমকে যাচ্ছে বহু বিচারপ্রার্থী হয়রানি হচ্ছেন। সব দায় মুখ্য‌মন্ত্রীর। 

Advertisement

পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, বিজেপির কথায় অনৈতিক ভাবে রাজ্যের দেড় কোটি মানুষকে শুনানির লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রান করিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয় বলেই সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের নিয়োগ করেছেন। বিচারপ্রার্থী থেকে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করানোর একমাত্র  দায় বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির আঁতাত প্রকাশ্যে এনে দিয়েছেন। 
এই মামলায় অভিযুক্তদের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, বিচারক এসআইআরের কাজে যুক্ত হয়েছেন। এদিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। ১২ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে।
১০ অক্টোবর দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার অন্তর্গত পরানগঞ্জের জঙ্গলে এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। 
বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অদূরে জঙ্গলে সেই কলেজের পড়ুয়াই ধর্ষিত হওয়ায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে। বিজেপির তাবড় নেতারা দুর্গাপুরে এসে এই ঘটনা নিয়ে নিন্দায় সরব হন। নির্যাতিতার বাবাকেও বিজেপির ধর্না মঞ্চ থেকেই বিচার চাই঩তে দেখা যায়। অন্যদিকে রাজ্য প্রশাসন এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চালায়। যার ফলে পাঁচ বহিরাগত ও ছাত্রীর এক সহপাঠীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 
সময় মতো পুলিশ চার্জশিট দেওয়ায় অভিযুক্তদের জেল হেপাজতে রেখেই কাস্টডি ট্রায়ালও শুরু হয়ে যায়। যার পরিণতিতে কয়েক মাসের মধ্যে নির্যাতিতা সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। গত বুধবারও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল। তবে তা হয়নি। 
আ‌ইনজীবী মহলের দাবি, পশ্চিম বর্ধমান জেলার যে ন’জন অতিরিক্ত জেলা বিচারক পদমর্যাদার বিচারককে এসআইআরের তথ্য যাচা‌ই঩য়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার অন্যতম লোকেশ পাঠক। স্বাভাবিক ভাবেই ফেব্রুয়ারি মাসে, এমনকী মার্চের প্রথম পর্বেরও মামলার শুনানির দিন রাখা যায়নি। 
আইনজীবী মহলের মতে, শুধু এই মামলা নয়, এই সময়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলাতেই এর প্রভাব পড়বে। তাই আরও একদফায় মানুষই হয়রানির শিকার হতে চলেছেন।  

সম্পর্কিত সংবাদ