সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: সাত লক্ষ দেশলাই কাঠি দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছে বারাকপুর মোহনপুরের সর্বপল্লি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। প্রতিমাশিল্পী উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের জ্যোতির্ময় বণিক। তিন মাসের বেশি সময় ধরে এই অনবদ্য প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। দেশলাই কাঠির বারুদ দিয়ে দেবীর মাথার চুল, গয়না তৈরি হয়েছে। শুধু মা দুর্গা নন, এভাবে মহিষাসুর, সিংহ, এমনকী সাপও বানিয়েছেন তিনি। তবে সময়ের অভাবে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে এভাবে বানাতে পারলেন না বলে আপশোস জ্যোতির্ময়বাবুর।
বুধবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, সর্বপল্লি উন্নয়ন সমিতির কালী মন্দিরের সামনে মণ্ডপ তৈরি চলছে। প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের টান দিচ্ছেন শিল্পী। তৈরি হচ্ছে দেশলাইয়ের বারুদ দিয়ে মায়ের গয়না। ৩৮ তম বর্ষে তাদের দুর্গা পুজোর মণ্ডপে থাকছে বাঁশ, পাটের বস্তা, নারকেল দড়ি, কুলো দিয়ে কুটিরশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা। আর গ্যাস লাইটারের ব্যবহারের ফলে হারিয়ে যাওয়া আরেক কুটিরশিল্প দেশলাইকে ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা।
জ্যোতির্ময় বণিক এর আগেও কালিয়াগঞ্জে চানাচুর, বিস্কুট, গম দিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছেন। দেশলাই কাঠি দিয়ে অনেক আগে তিনি একবার প্রতিমা তৈরি করেছিলেন। ফের নতুন করে সেই পরীক্ষা করলেন এবার। দেশলাইয়ের প্রতিমা দেখতে ইতিমধ্যেই উৎসাহী মানুষের দেখা মিলছে, জানালেন এই পুজো কমিটির সম্পাদক গোপাল সাউ। বললেন, বাংলার কুটিরশিল্পকে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। অনেক কষ্টে ওঁকে রাজি করিয়ে কালিয়াগঞ্জ থেকে নিয়ে এসেছি। অসাধারণ প্রতিমা তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যে পুলিসের পক্ষ থেকে এই প্রতিমাকে কার্নিভালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছে।
শিল্পী জ্যোতির্ময় বণিক বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি প্রতিমা তৈরির কাজ করতে ভালোবাসি। এর আগেও দেশলাই কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছিলাম। সেই প্রতিমা উত্তরবঙ্গের মানুষের নজরও কেড়েছিল। চানাচুর, গম, বিস্কুট দিয়েও প্রতিমা গড়েছি। কাঠামোর উপরে প্রথমে মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে আঠা দিয়ে দেশলাই কাঠি বসানো হয়েছে। এক একটি কাঠিকে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে পাঁচ টুকরো করা হয়েছে। সব কাঠি থেকে বারুদ বের করে মা দুর্গার চুল বা গয়না তৈরি করা হচ্ছে। এখানকার বাাসিন্দা বিভাস সরকার আমার বন্ধু। তাঁর অনুরোধেই কালিয়াগঞ্জ থেকে এখানে আসা। মানুষ প্রশংসা করছে, সেটাই আমার কাছে আশীর্বাদ।
প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীকে সহযোগিতা করছেন পুজো কমিটির বড় থেকে ছোট, সব সদস্য। তাঁরাও যেন হয়ে উঠেছেন এক একজন শিল্পী। পাড়ার অনেক ক্ষুদেই দেশলাই কাঠি ভাঙতে সহযোগিতা করছে জ্যোতির্ময়বাবুকে। গোটা পাড়া যেন সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মেতে আছে।-নিজস্ব চিত্র