Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বরানগরে দুর্গাপুজোর রাজনীতি জমজমাট, ফিকে থিমের লড়াই!

গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, কলকাতার বিভিন্ন নামকরা পুজোকে রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে উত্তর শহরতলির একাধিক বিগ বাজেটের পুজো। বিশেষত বরানগরের বেশ কয়েকটি পুজো তাদের মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমায় চমক দেখিয়েছে বারবার।

বরানগরে দুর্গাপুজোর রাজনীতি জমজমাট, ফিকে থিমের লড়াই!
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, কলকাতার বিভিন্ন নামকরা পুজোকে রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে উত্তর শহরতলির একাধিক বিগ বাজেটের পুজো। বিশেষত বরানগরের বেশ কয়েকটি পুজো তাদের মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমায় চমক দেখিয়েছে বারবার। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই পুজো কমিটিতেও বিস্তর বদল এসেছে। রাতারাতি ‘দখল’ হয়েছে একের পর এক পুজো কমিটি। তৃণমূল নেতাদের সরিয়ে বিজেপির বড়ো, মেজো, ছোটো নেতারা পুজোর মাথায় বসেছেন। পুজোর মাস খানেক আগেও নেই থিম যুদ্ধের সেই আবহ। একমাত্র ব্যতিক্রম নেতাজি কলোনি লোল্যান্ড। আগের মতোই এই পুজোর সর্বেসর্বা হিসাবে রয়েছেন বরানগর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ নারায়ণ বসু। তবে অনেকে বলছেন, পালাবদলের পর রাতারাতি তৃণমূলের সমস্ত কর্মসূচি থেকে অব্যাহতি নিয়ে ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। তাই পুজো কমিটিতে তাঁর কর্তৃত্বও অক্ষত রয়েছে! 

Advertisement

তৃণমূল জমানায় বরানগরে নেতাজি কলোনি লোল্যান্ড বনাম ন’পাড়া দাদাভাই সংঘের থিমযুদ্ধ ছিল নজরকাড়া। লোল্যান্ডের কর্ণধার দিলীপবাবু। আর পুরসভার সিআইসি (পূর্ত) অঞ্জন পাল ছিলেন দাদাভাই সংঘের কর্মকর্তা। প্রতিমা থেকে মণ্ডপ, সবেতেই ছিল এই দুই পুজোর প্রতিযোগিতা। পালাবদলের পর দাদাভাই সংঘের অফিসঘর ভাঙচুর করা হয়। ইতিমধ্যে সেই পুজোর ‘দখল’ নিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এবার ওই পুজোর জৌলুসও অনেক কমতে চলেছে বলে খবর। সতীন সেন সংসদের পুজোয় জড়িয়ে ছিলেন কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ বর্ধন। দাদাভাই সংঘের মণ্ডপ দেখে অনেকেই ওই পুজোয় ঢুঁ দিতেন। সেই পুজোর বাজেটও এবার অনেক কমে গিয়েছে। 
ডানলপে রবীন্দ্রনগর যুবকবৃন্দের পুজোর কর্ণধার ছিলেন কাউন্সিলার তথা যুব তৃণমূল নেতা শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজো। গতবার ট্রামের থিমে অনেকেই মোহিত হয়েছিলেন। সেই পুজোর রাশও এবার গিয়েছে অন্যদের হাতে। মল্লিক কলোনির পুজোকে বিগ বাজেটের করে তুলেছিলেন পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) রামকৃষ্ণ পাল। এবার তিনি ওই পুজো থেকে সরে গিয়েছেন। তবে এবার বরানগরে দু’টি পুজো হচ্ছে বড়ো আকারে। সিঁথির মাঠে প্রাক্তন কাউন্সিলার বাসব ঘোষের নেতৃত্বে বন্ধুদলের পুজোয় প্রত্যেকবার চমক থাকত। এবার বাসববাবুকে পুজো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই পুজোর প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন বিধায়ক সজল ঘোষ। বিশাল থিমের মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একইভাবে লোল্যান্ডের পুজোতেও আগের মতোই চোখ ধাঁধানো মণ্ডপ হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পুজোর সভাপতি করা হয়েছে বিশিষ্ট চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিধায়ক সজল ঘোষ। পুজোর যাবতীয় দায়িত্ব আগের মতোই সামলাচ্ছেন দিলীপবাবু। কিন্তু কোন রসায়নে পুজো উদ্যোক্তা হিসাবে তিনি পালাবদলের পরও টিকে রইলেন?  দিলীপবাবু বলেন, ‘আমি নতুন পুজো উদ্যোক্তা নই। সিপিএম জমানা থেকে পুজো করছি। তাই হয়তো কোনো সমস্যা হয়নি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ