ভিক্টর বাগ, কলকাতা: শীতপ্রধান দেশ বেলজিয়াম। সেখানে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আকাশের অন্য রূপ। খেলে বেড়ায় মেঘ। তবে সে মেঘ বাংলার পেঁজা তুলোর মত নয়। তার অবয়ব ছাড়া ছাড়া। তবু সেটুকুও দেখলেও মন হু হু করে সেখানকার বাঙালির। মনে পড়ে, এসময় বাংলার ভূ-প্রকৃতি অপরূপ। ঠিক তখনই মন পুজোর হিল্লোল তোলে। ব্রাসেলসে পুজোর আয়োজন করেছে ‘তেরো পার্বণ’। তাদের পুজোর বয়স মাত্র চার বছর। ২০২১ সালে সমমনস্ক কিছু বাঙালি পরিবারের হাত ধরে বেলজিয়ামের রাজধানী শহরে ‘তেরো পার্বণ’এর যাত্রা শুরু। এবারও তারা পুজোয় মেতেছে। কলকাতার কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী শ্রী সনাতন পালের তৈরি ফাইবার গ্লাসের সাড়ে ন’ফুটের দুর্গা প্রতিমা। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রতিমা। মণ্ডপসজ্জায় প্রাধান্য পাচ্ছে বাংলার আলপনা, বাংলার পটচিত্র, শিশু সাহিত্যে রায় পরিবারের প্রভাব। এবছর থাকছে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতও। গান পরিবেশন করতে আসছে বাংলা ব্যান্ড ক্যাকটাস। উদ্যোক্তাদের দাবি, বেলজিয়ামে এবারই প্রথম ক্যাকটাসের অনুষ্ঠান।
পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কলকাতা থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে পশ্চিম জার্মানির এরল্যাঙ্গেনেও। তিনটি বাঙালি পরিবার একসময় দুর্গাপুজো আয়োজনের মনস্থির করেছিল। সেই ভাবনারই ফসল ‘দুর্গাভিলে’। আল্পসের স্বপ্নময় মিডোয় হিমালয় কন্যার আরাধনা। দুর্গাভিলের এবার পঞ্চম বছরের আয়োজন। এবার থিম, বাংলার পটচিত্র। প্রতিমাকে ঘিরে থাকছে কালীঘাটের পট। যামিনী রায় ঘরানার ছবি। এ বছর পুজো চলবে একাদশী পর্যন্ত।
বার্লিন প্রাচীর ভেঙে পড়েছে সেই কবে। তবু রয়ে গিয়েছে আত্মপরিচয়। পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে পুজো করছে বঙ্গোৎসব ড্রেসডেন। তাদের পুজো এবার সাত বছরে পড়ল। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি পূর্ব জার্মানির সবচেয়ে বড় দুর্গাপুজো। পুজোর সঙ্গে যুক্ত ৬০ জন। ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক পুজোর কদিন প্রায় দেড় হাজার দর্শনার্থীকে সামলান। এবছর পুজো হবে দুই, তিন এবং চার অক্টোবর। এই তিনদিন ধরে নাটক, ও নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পালিত হবে দুর্গোৎসব। শুধু বাঙালি নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষদের সঙ্গে জার্মান নাগরিকরাও অংশগ্রহণ করে এই পুজোয়।
পুজোর আয়োজন শুরু হয়েছে মিউনিখেও। সনাতন মতে পুজো করেন বহু বাঙালি। ‘সনাতন মিউনিখে’র পুজো শুরু হয়েছিল অনাড়ম্বরভাবে। কাঠের উপর ছবি সেঁটে হতো পুজো। গতবছর কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা আনা হয়। এবারও সেই প্রতিমাতেই তিন, চার ও পাঁচ অক্টোবর হবে পুজো। কমিটির অন্যতম সদস্য অতনু ত্রিপাঠী বলেন, ‘দেড়শ পরিবার এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। মিউনিখের ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল পুজোয় আসেন। এছাড়া বার্লিন রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে মহারাজ অনলাইনে বক্তব্য রাখেন।’