পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: দুর্গাপুজো মানে আনন্দ, হই হুলোড়, ঠাকুর দেখতে রাত জাগা। এভাবে পুজোর ছুটিতে সবাই আনন্দ করার পরিকল্পনা করে। তবে আশা ভবনের বিশেষভাবে সক্ষম মানুষরা আক্ষেপ করতেন, ভিড় ঠেলে মণ্ডপে যাওয়ার উপায় তো তাঁদের নেই। তাঁরা কি তবে আনন্দ থেকে বঞ্চিতই থাকবেন? তবে সে সমস্যা সমাধানে তাঁদের মধ্যে থেকে একজন এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর নাম পুতুল মাইতি। তিনি হুইলচেয়ারে বসে চলাফেরা করেন। কিন্তু তাতে কিছু আটকায়নি। তিনি আশা ভবন সেন্টারেই দুর্গাপুজো করার পরিকল্পনা করেন। পুতুলের উদ্যোগে ১৪ বছর ধরে আশা ভবনে ধুমধাম করে হচ্ছে।
পুতুল মাইতির ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে। দীর্ঘদিন ধরে স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত। পরিবার দরিদ্র ছিল বলে টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হয়নি। হাত-পা পোলিওতে আক্রান্ত। ৮ বছর বয়সে পুতুল আসেন উলুবেড়িয়ার আশা ভবন সেন্টারে। সে সময় থেকেই নিজে চলাফেরা করতে পারেন না, কাজকর্ম করতে অক্ষম। এরপর আশা ভবনে নিয়মিত চিকিৎসায় ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে। পরবর্তী সময় প্রতিবন্ধকতাযুক্ত শিশুদের সহায়তায় পড়াশোনা শুরু করেন। ডিপ্লোমা পান। বর্তমানে আশা ভবনের জেনারেল ম্যানেজমেন্ট বিভাগে প্রজেক্ট সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কর্মরত।
দুর্গাপুজোর সময় আশা ভবনের বিশেষভাবে সক্ষমদের আকাঙ্খার বিষয়টি নজর করেছিলেন পুতুল। সমস্যা সমাধানে সেন্টারের অধিকর্তা জন মেরি বারুই এবং হোমের সুপার অরুণিমা জাষুকে সেন্টারে পুজো আয়োজনের প্রস্তাব দেন। সে প্রস্তাবে সাড়া দেয় কর্তৃপক্ষ। তৈরি হয় আশা ভবনের পারসন উইথ ডিসাবিলিটি ফোরাম। সম্পাদিকা হন পুতুল মাইতি। তখনই সেন্টারে পুজোর আয়োজন হয়। হুইলচেয়ারে বসে সবাইকে নিয়ে থিমের পরিকল্পনা করা থেকে প্যান্ডেল সাজানো, বাজেট তৈরি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রিহার্সাল, সবই সামলাচ্ছেন পুতুল। এবছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তিনি বলেন, মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখা আমাদের কাছে বড়ো সমস্যা। এখন সবাই মিলে সেন্টারে বসে পুজোর আনন্দ উপভোগ করছি। এটা আমাদের জীবনের বড়ো পাওনা।