নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যে পালাবদলের পর হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় দুর্গাপুজো সংখ্যায় বাড়ল। প্রায় ৭৬টি নতুন পুজো হচ্ছে এবছর।
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যে পালাবদলের পর হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় দুর্গাপুজো সংখ্যায় বাড়ল। প্রায় ৭৬টি নতুন পুজো হচ্ছে এবছর।
সোমবার হাওড়ার শরৎ সদনে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সমন্বয় বৈঠকে সংখ্যাবৃদ্ধির তথ্য সামনে আসে। প্রশাসনিক কর্তাদের বক্তব্য, দুর্গাপুজোকে ঘিরে এবার হাওড়ায় মানুষের আগ্রহ ও উদ্দীপনা বেশি।
বৈঠকে জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া, পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী এবং হাওড়া সিটি পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। আর ছিলেন সিইএসসি, ডব্লুবিএসইডিসিএল, দমকল, রেল পুলিশ এবং হাওড়া পুরসভার আধিকারিকরা। গতবার হাওড়া কমিশনারেট এলাকায় ১ হাজার ৪০০ পুজো হয়েছিল। এবার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৭৬।
পুজোর অনুমোদনের জন্য চলতি বছর ‘সহজ’ পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। সমন্বয় বৈঠকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই সরকারি পোর্টালে হাওড়ার ৪৪৪টি পুজোর আবেদন জমা পড়েছে। এখনও যে সমস্ত পুজো কমিটি অনুমোদনের জন্য আবেদন করেনি তাদের দ্রুত তা করতে পরামর্শ দেন জেলাশাসক। তাঁর বক্তব্য, ‘সময়মতো আবেদন করা হলে উদ্যোক্তা এবং প্রশাসন উভয়পক্ষেরই কাজ করতে সুবিধা হবে।’
জানা গিয়েছে, পুজোর ভিড় ও যানজট সামলাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। জিটি রোড, নেতাজি সুভাষ রোড, বেলিলিয়াস রোড, পঞ্চাননতলা রোড, শৈলেন মান্না সরণি সহ উত্তর হাওড়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি স্বাভাবিক রাখতে পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুজোর দিনগুলি ভিড় বাড়ার কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিসর্জন নিয়েও একাধিক বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে পুলিশ। জোর করে চাঁদা আদায় করা যাবে না। বিসর্জনের সময় ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ। ক্রেন ব্যবহার না করে বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র রামকৃষ্ণপুর ঘাটে হাওড়া পুরসভা গতবারের মতো ট্রলি ব্যবস্থায় বিসর্জনের আয়োজন করবে। অন্য ঘাটগুলিতে ক্লাবগুলিকেই স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্যে বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে। দশমী থেকে লক্ষ্মীপুজোর মধ্যে এই পর্ব শেষ করার কথা জানান পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ রাখার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে সব পক্ষকে।
মণ্ডপের কাছে আমিষ খাবার সংক্রান্ত কোনো সরকারি নির্দেশিকা আছে কি না তা নিয়ে এদিন মন্তব্য করেননি পুলিশ কমিশনার।