নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিশ্বে কোনও কিছুই ফেলে দেওয়ার নয়। তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়। সে বার্তা দিতে এবার শুকিয়ে যাওয়া গাছের অংশ ব্যবহার করে হাবড়ার এক শিল্পী তৈরি করেছেন দুর্গামূর্তি। গাছের শুকনো ডালপালা, ফুল ও ফল দিয়ে মূর্তি তৈরি করে নজর কেড়েছেন হাবড়ার ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার। বৃহস্পতিবার মূর্তিটি রওনা দেবে উত্তরবঙ্গের একটি মণ্ডপে।
হাবড়ার বাণীপুরে থাকেন ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার। কখনও মুক্তো দিয়ে কখনও অব্যবহার্য সামগ্রী দিয়ে মূর্তি তৈরি করেন। এবার একধাপ এগিয়ে আনলেন অভিনবত্ব। শুকনো দেশি ও বিদেশি গাছের পাতা, ফুল, ফল সহ অনান্য অংশ দিয়ে তৈরি করেছেন প্রতিমা। মূর্তিটি যাবে কোচবিহার সদর শহরের খাগড়াবাড়ি সর্বজনীন শারোদৎসব নাট্য সঙ্ঘের মণ্ডপে। ইন্দ্রজিৎ প্রথমে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছেন। তারপর তাতে দিয়েছেন শুকনো গাছের অংশ। শিল্পী জানান, দেবীর দেহ তৈরি থাইল্যান্ডের পাটকাঠি দিয়ে। মুখ বেলের মালা ব্যবহার করে হয়েছে। চুল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুলকপির শিকড়। কোমরে থাকা বিছে ও ওড়না তৈরি হয়েছে ঘাসফুল দিয়ে। শাড়ি এবং নখ পেঁপে গাছের ছাল, পাইন ফল, অস্ট্রেলিয়ার পিনুক গাছের ফুলের পাপড়ি, আখরোট বাদামের ফুলের পাপড়ি, পামছাল দিয়ে। চালি তৈরি হয়েছে কম্বেল দিয়ে। চালচিত্র সিমের। তালপাতা, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার ডুমুর ফল দিয়ে তৈরি বেদী। মূর্তির উচ্চতা সাড়ে ১১ ফুট। চওড়ায় সাড়ে সাতফুট। অনান্য মূর্তির উচ্চতাও সাত ফুট। কমিটির প্যান্ডেলও তিনি তৈরি করেছেন। থিম কাল্পনিক স্বর্ণমন্দির। পুজো কমিটির সম্পাদক শুভময় সেন বলেন, ‘এবার পুজোর ৭৬ তম বর্ষ। প্রতিবছরই অভিনব থিম ও মূর্তি উপহার দিয়ে থাকি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেবতার বিদায় কবিতা অবলম্বনে থিম ভাবনা, স্বর্ণমন্দির মাঝে ভক্ত প্রবীণ। বার্তা দেওয়া হচ্ছে ভগবান সর্বত্র বিরাজমান। নিজস্ব চিত্র