কুন্তল পাল, বনগাঁ: সিংহবাড়ির দুর্গাপুজো বনগাঁর ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। দেবী জাগ্রত বলে সবার বিশ্বাস। শোনা যায়, একবার বাড়িতে ডাকাতি করতে এসেছিল ডাকাতরা। সিংহবাড়িতে আসার আগে চিঠিও দিয়েছিল। আসার পর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছিল। তখন বাড়ির প্রতিটি দরজার সামনে ত্রিশূল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুর্গা। ডাকাতরা দেখে ভয় পেয়ে যায়। পালায়। দুর্গামন্দিরের পাশেই ছিল বিশাল আমবাগান। সে বাগানে প্রায় একমাস লুকিয়ে ছিল তারা। মাঝে মধ্যে মশাল জ্বালাত। আগুন দেখা যেত। তারপর এলাকা ছাড়ে। পরবর্তীকালে কলকাতায় ধরা পড়ে দলটি। তারা জানিয়েছিল, বাড়ির সবক’টি দরজা দিয়ে ঢুকতে গিয়ে বাধা পেয়েছিল। প্রতিটি দরজায় লালপাড় সাদা শাড়ি পরে হাতে ত্রিশূল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুর্গা। এখন পুজোর জৌলুস কমেছে। তবু নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়। ১৯২ বছরের পুরনো সিংহবাড়ির পুজো খুবই জনপ্রিয়।
বাংলা ১২৪০ সনে যুধিষ্ঠির সিংহ ও গোপাল সিংহ স্বপ্ন দেখার পর পুজো শুরু করেছিলেন। তার আগে সিংহবাড়িতে বাসন্তী পুজো হতো। সেসময় মন্দির ছিল মাটির তৈরি। মাটির দেওয়াল ও খড়ের ছাউনি। দুর্গাপুজো শুরুর পর দালান, মন্দির তৈরি হয়। একসময় সিংহদের প্রায় ১০০ শরিক ছিল। সকলেই পুজো থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। লোকমুখে প্রচলিত, দেবীর কাছে মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
চাপড়া ষষ্ঠীতে ছ’ফুট লম্বা ও সাড়ে চারফুট চওড়া শাল কাঠের কাঠামোতে তেল-সিঁদুর লাগিয়ে পুজো শুরু হয়। এরপর প্রতিমা তৈরি। মন্দিরে এসে প্রতিমা গড়েন শিল্পী। একসময় গঙ্গার পলিমাটি এনে তৈরি হতো। আটচালার প্রতিমা। ডাকের সাজ। পরানো হত দামি পুতি, জরি। আজ সে জৌলুস হারিয়ে গিয়েছে। সন্ধিপুজোতে মহিষ ও ভেড়া বলি দেওয়ার রীতি ছিল। এখন বলি বন্ধ। পরিবর্তে ন’রকমের ফল দেওয়া হয় দেবীকে। জানা গিয়েছে, একবার পুজোর দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বাড়ির এক সদস্য। তিনি বলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বাড়ির সদস্য বিশ্বনাথ সিংহ বলেন, ‘একসময় এই পুজো ঘিরে বনগাঁবাসীর মধ্যে উন্মাদনা ছিল। বহু মানুষ আসতেন। কালের নিয়মে জৌলুস কিছুটা কমলেও এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়।’