Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে দুরন্ত মার্করাম, শাপমোচন দক্ষিণ আফ্রিকার, অজিদের দর্পচূর্ণ, বিশ্বসেরা প্রোটিয়ারা

লর্ডসে নতুন ইতিহাস লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭ বছর পর নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ জিতল আইসিসি ট্রফি।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে দুরন্ত মার্করাম, শাপমোচন দক্ষিণ আফ্রিকার, অজিদের দর্পচূর্ণ, বিশ্বসেরা প্রোটিয়ারা
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

লন্ডন: লর্ডসে নতুন ইতিহাস লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭ বছর পর নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ জিতল আইসিসি ট্রফি। এতদিন শিবরাত্রির সলতের মতো ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিই ছিল একমাত্র সাফল্য। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার দর্পচূর্ণ করে চোকার্স তকমা টেমসের জলে ডোবাল প্রোটিয়ারা। আইডেন মার্করামের লড়াকু শতরানই গড়ে দেয় জয়ের সরণি। ২৮২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে পৌঁছল তেম্বা বাভুমার দল। এক কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারের হাতে উড়ল রামধনুর দেশের পতাকা। মুহূর্তে যা হয়ে উঠল দুনিয়ায় নিপীড়িত, শোষিত, অত্যাচারিত মানুষের বন্ধনমুক্তির প্রতীক। টেস্টের বিশ্বসেরা হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে ‘আমরা করব জয়, উই শ্যাল ওভারকাম’ সুরে মাতল দুনিয়া।

Advertisement

এদিন জেতার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ৬৯ রান। হাতে ছিল ৮ উইকেট। বাভুমা (৬৬) অবশ্য মাত্র এক রান যোগ করেই ফেরেন। ১৪৭ রানের জুটি ভাঙতেই বইতে শুরু করল আশঙ্কার চোরাস্রোত। সকালের স্যুইং কাজে লাগিয়ে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজলউডরা বিধ্বংসী হয়ে উঠবেন না তো? নাথান লিয়ঁর বলও তো মাঝে মাঝেই একহাত ঘুরছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা মানেই তো চাপের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার কাহিনি। অতীতে অজস্রবার তীরে এসে তরি ডুবেছে। এবার তেমনই চোখের জল অপেক্ষায় নেই তো? মার্করাম অবশ্য তা হতে দিলেন না। একটা দিক আগলে রাখলেন দায়িত্ব নিয়ে। সামলে দিলেন স্টার্কদের যাবতীয় গোলাগুলি। চতুর্থ উইকেটে ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে এল ২৪ রান। তার মধ্যে স্টাবসের সংগ্রহ ৮। এরপর ডেভিড বেকিংহ্যামের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে যোগ হল ৩৫। এই জুটিই জয়ের থেকে করমর্দনের দূরত্বে নিয়ে আসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। 
মার্করামের ব্যাটে জয়সূচক রানের প্রতীক্ষায় তখন গোটা মাঠ। সীমানার বাইরে অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে গ্রেম স্মিথ, কেভিন পিটারসেনরা। গ্যালারিতে দুলছে সবুজ পতাকা। ভিআইপি বক্সে ক্রিকেটারদের পরিবার উন্মুখ। এমন সময়েই হ্যাজলউডের বলে মিড উইকেটে মার্করামের অসাধারণ ক্যাচ ধরলেন ট্রাভিস হেড। ৩৮৩ মিনিট ক্রিজে থেকে ২০৭ বল খেলে এই ১৩৬ রানকে নিছক পরিসংখ্যানে মাপলে ভুল হবে। গুরুত্বে, তাৎপর্যে এই ইনিংসের ব্যাপ্তি বিশাল। কারও কারও মতে তো প্রোটিয়াদের হয়ে এটাই টেস্টে সর্বকালের সেরা ইনিংস।   
মার্করাম ফিরতে আচমকাই থমকে গেল উৎসবের পরিবেশ। তবে তা বেশিক্ষণের জন্য নয়। জেতার জন্য বাকি যে মাত্র ৪ রান। অবশেষে স্টার্কের ওয়াইড ফুলটস ব্যাটে লাগিয়ে কাইল ভেরিন দৌড়তেই বাঁধ ভাঙল আবেগের। দাঁড়ি পড়ল এত বছরের দুঃখ-যন্ত্রণা-হতাশার কাহিনিতে। সূর্যোদয় ঘটল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে। লর্ডসের ব্যালকনিতে শুরু হল কাগিসো রাবাডা, কেশব মহারাজদের উল্লাস। একজনকে যদিও দেখা গেল চেয়ারে বসা। বাভুমা যেন আবেগের আতিশয্যে উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন। হওয়ারই কথা, দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে এমন মুহূর্ত আগে কখনও আসেনি যে!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ