সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: শনিবারের যুবভারতীতে হীরকদ্যুতি নয়, জ্বলে উঠল আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ! আলেদাইন আজারেইয়ের মাস্টারক্লাসেই ফিনিশ ডায়মন্ডহারবার এফসি। হাফ ডজন গোলের মালা পরিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ডুরান্ড কাপ নর্থইস্ট ইউনাইটেডের। সেই সঙ্গে অভিষেকেই ঐতিহ্যশালী ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভেঙে খানখান কিবু ভিকুনা-ব্রিগেডের। ১-৬! শুধু হার নয়, লজ্জাও বটে। তাই রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় মুষড়ে পড়লেন লুকা মাচেনরা। ততক্ষণে ভিআইপি বক্স থেকে মাঠে দৌড়ে পৌঁছে গিয়েছেন নর্থইস্টের কর্ণধার জন আব্রাহাম। বলিউড সুপারস্টারকে জড়িয়ে শুরু হল আলেদাইন, পার্থিবদের বিজয়োল্লাস।
গতবারও ডুরান্ডের ফাইনালে মোহন বাগানকে বশ মানায় নর্থইস্ট। শনিবার যুবভারতীতে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন স্প্যানিশ কোচ পেড্রো বেনালি। মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে মাত দিলেন আরও এক স্প্যানিশ কোচ কিবু ভিকুনাকে। আর হাতে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ থাকলে, চিন্তা কীসের! আলেদাইন গত বছর ফাইনালে গোল করেছিলেন। এবার শুধু স্কোরশিটে নাম তোলা নয়, অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিকে ডায়মন্ডহারবারকে ভেন্টিলেশনে পাঠালেন। এদিন চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
১৩৪তম ডুরান্ড ফাইনাল স্মরণীয় করতে আয়োজনের ত্রুটি রাখেনি সেনাবাহিনী। মাঠে বল গড়ানোর আগে আর্মি প্যারেড, পুরুলিয়ার ছৌ নাচে মজে ছিলেন দর্শকরা। হেলিকপ্টারে আকাশ থেকে প্লেয়ারদের উপর পুষ্পবৃষ্টির দৃশ্যও ছিল দেখার মতো। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট চলল একে অপরকে মেপে নেওয়ার পালা। বেনালির নর্থইস্টকে রুখতে ৪-৪-২ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন কিবু। মাঝমাঠে অ্যান্ডিকে কড়া মার্কিংয়ে রেখে আলেদাইনের সাপ্লাই লাইন কাটাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। এই পর্বে বেশ কয়েকবার প্রতি-আক্রমণে গোলের সুযোগও তৈরি করেন জবিরা। কিন্তু লক্ষ্যভেদে সফল হননি। জলপানের বিরতির পরই মাস্টার স্ট্রোক বেনালির। লেফট উইং থেকে আলেদাইনকে স্ট্রাইকার পজিশনে আনতেই ডায়মন্ডহারবার রক্ষণে চিচিং ফাঁক। ৩০ মিনিটে লিড নেয় বেনালি-ব্রিগেড। কর্নার থেকে রডরিগেজের ভাসানো বল জটলার মধ্যে পেয়ে শট মারেন আলেদাইন। কিন্তু তা বিপন্মুক্ত করতে ব্যর্থ মিরশাদ। ফিরতি বল জালে জড়ান আশির আখতার (১-০)। এরপর প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে আলেদাইনের সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন পার্থিব (২-০)। দুই গোলে পিছিয়ে পড়তেই জারিজুরি শেষ ডায়মন্ডহারবারের। দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিটের মধ্যেই ফের গোলের মুখ খোলেন আলেদাইন। বাঁ দিক বরাবর উঠে মরক্কান ফরোয়ার্ডের বাড়ানো ক্রস জালে জড়ালেন থই সিং (৩-০)। ৬৮ মিনিটে লুকা মাচেনের গোলে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ডায়মন্ডহারবার (৩-১)। কিন্তু ৮১ মিনিটে ৪-১ করলেন জাইরো। এরপর ডায়মন্ডহারবারের রক্ষণ গড়ের মাঠ। ৮৬ মিনিটে লক্ষ্যভেদ অ্যান্ডির (৫-১)। আর সংযোজিত সময়ে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতলেন খোদ আলেদাইন (৬-১)।