নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দু’দিন কেটে গেলেও মধ্যমগ্রামের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে এখনও আগুন জ্বলছে। সন্ধ্যার পর থেকে নজরে আসছে আগুনের লেলিহান শিখা। আগুন কবে পুরোপুরি নিভবে, সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুশ্চিন্তায় তাঁদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। কারণ, জোরে বাতাস বইলে আগুন যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে, তাতে যে কোনও সময় তা বিধ্বংসী চেহারা নিতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। বড় কোনও বিপত্তি এড়াতে এলাকায় সারাক্ষণ মোতায়েন থাকছে দমকল বাহিনী। আগুন বেরলেই জল দিচ্ছেন তাঁরা।
শনিবার বিকেলে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢালিপাড়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আগুন দেখা যায়। আবর্জনা থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসই আগুনের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর যত সময় গড়িয়েছে, আগুন ততই ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ড লাগোয়া এলাকায় রয়েছে শেখ ইসমাইলের বাড়ি। সেই বাড়ি আগুনে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ির বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছেন তাঁরা। ধোঁয়ায় ভরে যাচ্ছে গোটা এলাকা। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষজন। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকেলের পর থেকে বাতাস বইলেই আগুন ও ধোঁয়া বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রাতে ঘুমোতে পারছি না। একবার আগুন ছড়িয়ে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে।’ একই কথা শোনালেন রজেত আলি মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, এই ডাম্পিং গ্রাউন্ড অন্যত্র সরানো হোক। এবার হয়তো সরবে। তা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের একটা আতঙ্ক থাকবেই। পুরসভা এনিয়ে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।’ শেখ ইসমাইল বলেন, ‘ঘুম উড়ে গিয়েছে। ঈদের আনন্দই নষ্ট হয়ে গেল। শনিবার কোনওরকমে বাড়িটা বাঁচিয়েছি।’ মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, ‘এখন আর আগুন নেই। তবে ধোঁয়া রয়েছে। এলাকার মানুষের দাবি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার এই ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তরে একটি বৈঠক হবে। ওই এলাকা থেকে আবর্জনা সরানোর ব্যাপারে কথা হবে সেখানে। মানুষকে অনুরোধ, আতঙ্কিত হবেন না।’ নিজস্ব চিত্র