


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কায় বাইক আরোহী অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। সোমবার সকালে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের একটি লেন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ফলে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
পুলিস জানিয়েছে, সোমবার সাতসকালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জাতীয় সড়ক ধরে বেলডাঙা থেকে এক যুবক বাইকে বহরমপুরের দিকে আসছিলেন। বাইকের পিছনের সিটে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বসেছিলেন। হঠাৎই পিছন থেকে একটি ডাম্পার তীব্র গতিতে এসে তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারে। তারপর দু’জনকে পিষে দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিস ওই যুবক ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘাতক ডাম্পারের চালক দুর্ঘটনার পরই রাস্তার পাশে একটি পেট্রল পাম্পে ডাম্পার রেখে পালিয়ে যায়। পুলিস ডাম্পারটি আটক করেছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু করেন। বেলডাঙা থানার পুলিস এসে প্রথমে অবরোধ তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু, স্থানীয়রা পুলিসের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের দাবি, প্রতি সপ্তাহেই জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এর অন্যতম কারণ, ট্রাফিক পুলিস ঠিকমতো ডিউটি করে না। রাস্তা দিয়ে লাগাতার ওভারলোডেড ডাম্পার ও ট্রাক চলাচল করছে। প্রায় দিনই এই সংকীর্ণ জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। সেই জন্য তাঁরা পথনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। অবশেষে পুলিসের আশ্বাসে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন। বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, ওই বাইকের পিছন দিকে ডাম্পারটি ধাক্কা মেরেছিল। আমরা ঘাতক গাড়িটি আটক করেছি। তবে সেটির চালক পালিয়ে গিয়েছে। তার খোঁজে পুলিস তল্লাশি চালাচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় জখম যুবক ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ৪০মিনিট জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। পরে তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাইক। নিজস্ব চিত্র