নয়াদিল্লি: জ্বরে কাবু শুভমান গিল। রক্ত পরীক্ষাও হয়েছে তাঁর। এই আবহে দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার-ফাইনালে গিলের খেলা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। ২৮ আগস্ট বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে পূর্বাঞ্চলের মুখোমুখি উত্তরাঞ্চল। এই ম্যাচে গিলই উত্তরাঞ্চলের ক্যাপ্টেন। দলীপে এই একটা ম্যাচই খেলতে পারবেন তিনি। এরপরই সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এশিয়া কাপ খেলতে রওনা হবেন গিল। ১০ সেপ্টেম্বর আমিরশাহির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু সূর্যকুমার যাদব ব্রিগেডের।
এই মুহূর্তে চন্ডীগড়ের বাড়িতে রয়েছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। তাঁর শারীরিক কন্ডিশন নিয়ে বিসিসিআই’কে প্রতিনিয়ত রিপোর্ট করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, সামনেই যেহেতু এশিয়া কাপ, তাই সুস্থ হয়ে উঠলেও গিলের বিশ্রাম নেওয়া উচিত দলীপ ট্রফিতে। কারণ, পর পর রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। এশিয়া কাপ শেষ হতে না হতেই ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজ। প্রথম ম্যাচ ২ অক্টোবর। তারপর ১৯ অক্টোবর শুরু অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ। সেখানে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজও খেলবে টিম ইন্ডিয়া। দেশে ফিরতে না ফিরতেই চলে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রয়েছে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এমন ঠাসা সূচি বলেই গিলকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।
স্বয়ং শুভমান অবশ্য অন্যরকম ভাবছেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এখন ঘরোয়া আসরে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থাকছে না, তখন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের মাঠে নামা আবশ্যক। গিল চাইছেন দলীপ ট্রফিতে খেলে সেই উদাহরণই স্থাপন করতে। জ্বর হলেও সেজন্যই এখনও খেলার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় অধিনায়ক খেলেন কিনা, সেটাই দেখার।
দক্ষিণাঞ্চল অবশ্য দলীপের স্কোয়াডে লোকেশ রাহুল ও মহম্মদ সিরাজকে রাখছে না। এই নিয়ে সম্প্রতি প্রত্যেক রাজ্য সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে বিসিসিআই। তাতে বলা হয়েছে যে, সেন্ট্রাল কনট্র্যাক্ট থাকা সমস্ত ক্রিকেটারকেই দলীপের দলে রাখা উচিত। জুলাইয়ে শেষে ঘোষিত দক্ষিণাঞ্চল স্কোয়াডে রাহুল-সিরাজ ছাড়াও নেই ওয়াশিংটন সুন্দর, সাই সুদর্শন, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণরা। তাঁরা না থাকাতেই প্রধানত এমন কড়া বার্তা বোর্ডের। কিন্তু সেই নির্দেশও মানতে নারাজ দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচকরা। তাঁদের যুক্তি হল, সেক্ষেত্রে রনজি ট্রফিতে ভালো পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটাররা বঞ্চিত হবেন। গত মরশুমে যেমন কেরল উঠেছিল রনজির ফাইনালে। সেই দলের চারজন আছেন দলীপের দক্ষিণাঞ্চল স্কোয়াডে। কিন্তু জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দলীপে খেললে কেরলের ক্রিকেটারদের জায়গা হবে না। তাঁরা বরং চাইছেন, চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের রনজি ট্রফিতে খেলা বাধ্যতামূলক করতে। আরও ম্যাচ খেলাতে চাইলে ভারত ‘এ’ দলে তাঁদের নির্বাচিত করার দাবিও উঠছে দক্ষিণাঞ্চলের তরফে। ফলে রাহুল-সিরাজদের দলীপে দেখার সম্ভাবনা নেই।