রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: গত এক বছর ধরে বাঁকুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় জাল নোট ‘পুশ’ করেছিল তালডাংরা কাণ্ডে ধৃত দুলাল হাসান মল্লিক ও গোলাম খান। কয়েকমাস আগে সোনামুখী ও পাত্রসায়রে গিয়ে তারা কয়েকজনকে জাল নোট গছিয়েছিল বলে পুলিসি জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে। নোটের গুণগত মান ভালো না হওয়ায় তারা মূলত প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে জাল ৫০০ টাকার নোট লেনদেন করত। নোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের তারা ‘টার্গেট’ করত। ৫০০ টাকা জাল করে সাফল্য পাওয়ায় ধৃতরা ২০০, ১০০-র মতে ছোট নোট জাল করারও ছক কষেছিল।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, এক বছর ধরে ধৃতরা জেলাজুড়ে জাল নোট ছড়িয়েছে। তারা ঠিক কত টাকা লেনদেন করেছে, তা এখনও জানা যায়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিন্দি ওয়েব সিরিজ দেখে নোট জাল করা শিখে দুলাল ও গোলাম ময়দানে নামে। উন্নতমানের কাগজ কিনে তারা বিশেষ এক ধরনের প্রিন্টার মেশিনের সাহায্যে ৫০০ টাকার জাল নোট ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ত। তালডাংরা থানা এলাকায় বাড়ি হওয়ার কারণে সেখানে তারা প্রথমদিকে জাল নোটের কারবার চালাত না। পরিবর্তে তালডাংরা থেকে অনেকটা দূরে সোনামুখী, পাত্রসায়র সহ বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্যান্য ব্লকে গিয়ে দেদার জাল নোট গছিয়ে দিত। এক বছর ধরে কারবার চালানোর পরেও ধরা না পড়ায় তাদের সাহস বেড়ে যায়। ফলে তারা তালডাংরাতেই পরপর জাল নোট ছাড়তে শুরু করে। সেটাই তাদের কাল হল! শেষ পর্যন্ত তারা ধরা পড়ে যায়।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জাল নোট মূলত দু’ধরনের হয়। পাকিস্তানে ছাপানো জাল নোট অনেক উন্নতমানের। ওই নোটে কানাডা থেকে আমদানি করা কাগজ ব্যবহৃত হয়। নেদারল্যান্ড, ফ্রান্সের ডাইস সহ অন্যান্য মেশিনে ওই নোট ছাপানো হয়। ফলে আসলের সঙ্গে তার ফারাক খুব একটা থাকে না। তবে দেশীয় পদ্ধতিতে নোট জাল করলে তা ততটা উন্নত হয় না। দ্বিতীয় ধরনের ওই জাল নোট তালডাংরায় ধৃতরা বাজারে ছেড়েছিল। গ্রামগঞ্জে অনেকেই ৫০০ টাকার নোট নিয়মিত লেনদেন করেন না।
মহিলাদের ক্ষেত্রে ওই হার আরও কম। ফলে দুলাল ও গোলাম প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে মহিলাদের ওই নোট দিত। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ব্যস্ত থাকলে অনেক সময় মহিলারা দোকানে বসেন। তাঁদের কাছে সামান্য কিছু সামগ্রী কেনার বিনিময়ে ৫০০ টাকার জাল নোট তারা ধরিয়ে দিত। পরিবর্তে ফেরত নিত আসল টাকা।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, জাল নোট গছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই একটি মাত্র পন্থা ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে। তবে এর বাইরেও বাজারে জাল নোট ছাড়ানোর একাধিক কৌশল তারা নিয়েছিল বলে আমাদের অনুমান। তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাঁচশোর পাশাপাশি ১০০, ২০০ টাকার নোট জাল করার চেষ্টাও সম্প্রতি ধৃতরা করছিল। -নিজস্ব চিত্র