নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: হিমালয়ের দেশ নেপাল অগ্নিগর্ভ। জেন-জি’র বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির গোটা সরকার। এখনও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ অব্যাহত। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এমন পরিস্থিতির জেরে স্তব্ধ শিলিগুড়ির নেপাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর পানিট্যাঙ্কি। লোক যাতায়াত তো দূরের কথা, সংশ্লিষ্ট বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে মঙ্গলবার পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করেনি। শিলিগুড়ি-কাঠমাণ্ডু সরকারি বাস পরিষেবাও বন্ধ। ফলে এক দিনেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার ব্যবসায় লোকসান! একই সঙ্গে নেপাল সীমান্তবর্তী মিরিক ও মানেভঞ্জনে ছড়িয়েছে চাপা আতঙ্ক। এদিন নেপাল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম চষে বেড়ান উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ যাদব ও দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ। আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পুলিস এপারের সীমান্ত গ্রামে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে বলে খবর। সতর্ক করা হয়েছে সশস্ত্র সীমা বল’কেও (এসএসবি)। ইতিমধ্যেই আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য নেপাল সীমান্ত বন্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্র সরকার।
পানিট্যাঙ্কিতে দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার বলেন, নেপাল সীমান্তবর্তী শিলিগুড়ির গ্রামগুলি শান্ত রয়েছে। ভারত থেকে নেপালে যাওয়ার আরও কিছু সড়কপথ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এসএসবি এবং নেপাল পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। যাতে ওপার থেকে কোনও দুষ্কৃতী এপারে না আসতে পারে। এসএসবির ৪১তম ব্যাটালিয়ানের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট দুর্গেশ পান্ডে বলেন, নেপালের ঘটনা জেরে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রুটমার্চ চলছে।
অশান্তির আঁচ পড়েছে শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের কাঁকরভিটায়। সেখানে সরকারি অফিস ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দমক, বিত্তামোড় ও ধুলাবাড়ির জায়গায় জায়গায় ২ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। বোল্ডার দিয়ে অবরোধ করা হয় রাস্তা। এর জেরেই পানিট্যাঙ্কিতে থমকে গিয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্য। পানিট্যাঙ্কিতে পণ্য বোঝাই যাহনবাহনের লম্বা লাইন। যাত্রী বোঝাই যানবাহনও সেভাবে চলছে না।
পানিট্যাঙ্কি কাস্টমস বিভাগের সুপার অমিত সাহা বলেন, পণ্য পরিবহণে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। ওপারের সঙ্গে যাঁরা বৈদেশিক বাণিজ্য করেন, তাঁরা গাড়ি পাঠাননি। এজন্য এদিন কোনও পণ্যবাহী গাড়ি ওপারে যায়নি। দুটি পণ্যবাহী গাড়ি কাঁকড়ভিটাতে ফিরে এসেছে। সেগুলিকে এপারে প্রবেশের অনুমতি হেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমও শিলিগুড়ি-নেপাল রুটের বাস পরিষেবা বন্ধ করেছে। তারা পিপিপি মডেলে সংশ্লিষ্ট রুটে দু’টি বাস চালাতো। নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় জানান , আপাতত বাস দু’টি চালানো হচ্ছে না।
প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পানিট্যাঙ্কি দিয়ে নেপালে যাতায়াত করা যায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সংশ্লিষ্ট পথ দিয়ে দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত করেন। এর উপর নির্ভরশীল পানিট্যাঙ্কি মার্কেট। পুজোর মুখে এনিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা। পানিট্যাঙ্কি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী বলেন, সীমান্তের এই বাজারে ৯৪৮টি দোকান রয়েছে। দৈনিক প্রায় ৭ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এদিন ১০ লক্ষ টাকারও ব্যবসা হয়নি। এর বাইরে মিরিক ও মানেভঞ্জন সীমান্তেও প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকা দিয়েও লোক কম যাতায়াত করেছে। নজরদারি বাড়িয়েছে এসএসবি।