সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভিনরাজ্যের মৎস্যজীবীদের থাবা দুর্গাপুর ব্যারাজের জলাধারে। তাঁদের ব্যবহার করা চায়না জালের দাপটে নদী থেকে উধাও হচ্ছে গলদা চিংড়ি সহ নানান দেশী প্রজাতির মাছ। এমনই অভিযোগ দুর্গাপুর ব্যারাজের মৎস্যজীবীদের।
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভিনরাজ্যের মৎস্যজীবীদের থাবা দুর্গাপুর ব্যারাজের জলাধারে। তাঁদের ব্যবহার করা চায়না জালের দাপটে নদী থেকে উধাও হচ্ছে গলদা চিংড়ি সহ নানান দেশী প্রজাতির মাছ। এমনই অভিযোগ দুর্গাপুর ব্যারাজের মৎস্যজীবীদের।
অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারিদের চায়না জাল ব্যবহারে দেশীয় মাছ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলাশয়ের পরিবেশ। প্রায় ৩০ ফুট লম্বা চায়না রিং জাল ও দুয়ারি জালের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। এই জালের বাড়বাড়ন্ত শেষ করছে মাছের ডিম সহ চারা। মৎস্যজীবীদের দাবি, এভাবে চললে আগামীদিনে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সঙ্কটে পড়বে হাজারেরও বেশি মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকা। যদিও এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে জেলা মৎস্য দপ্তর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীর জল সেচ ও শিল্পে ব্যবহারের জন্য ১৯৫৫ সালে দামোদর নদের ওপর দুর্গাপুর ব্যারেজ গড়ে ওঠে। বহু মানুষ প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই জলাধারে মাছ শিকার করে রুটি-রুজি চালাচ্ছেন। দুর্গাপুরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পেশায় অধিকাংশই মৎস্যজীবী। এই জলাধারের বিখ্যাত মাছ ছিল দেড় হাতের দাঁড়যুক্ত কালো গলদা চিংড়ি। যা ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের।
স্থানীয় মৎস্যজীবী স্বপন বিশ্বাস ও সুশান্ত সরকার বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে দামোদরের চরে বিহার থেকে একদল মৎস্যজীবীর আবির্ভাব হয়। তারা প্রথমে জলে বিষ মিশিয়ে মাছ মারছিল। ওই মাছ মশারির জালে ছেঁকে তুলে বাজারে সরবরাহ করছিল। আমরা ওদের বাধা দিয়েছিলাম। পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। সেটা বন্ধ হলেও কয়েক বছর ধরে তারাই ফের মাঝ ধরতে বড় চায়না রিং জাল ব্যবহার করছে। এই বর্ষায় ওই চায়না জালে আটকা পড়ে মাছের সুক্ষ্ম ডিম ও চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে গলদা চিংড়ি আজ বিলুপ্ত। পাশাপাশি রুই, কাতলা, ভোলা, তেলাপিয়ার মতো দেশীয় প্রজাতির মাছেরও অস্তিত্ব আশঙ্কায় রয়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও সুরাহা হচ্ছে না।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক দিলীপ মণ্ডল বলেন, আগেও ওই জলাধারে বিষ মিশিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছিল। আমরা তৎপরতার সঙ্গে তা বন্ধ করেছি।
এক শ্রেণির মৎস্যজীবী চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে জানা ছিল না। প্রথমে এলাকার মৎস্যজীবীদের সচেতন হতে হবে। অভিযোগ দায়ের হলে পুলিসকে সহযোগিতা করব।