প্রীতেশ বসু, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব কেন্দ্রের। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকা, খাওয়া, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচ রাজ্যকেই করতে হয়। তবে সেই টাকা কেন্দ্রের পরিশোধ করে দেওয়ার কথা। এটা কেন্দ্রেরই তৈরি করা পুরোনো নিয়ম। ওইসঙ্গে আরও একটি নিয়ম রয়েছে, রাজ্যের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলকে (এক্ষেত্রে এজি বেঙ্গল) দিয়ে এই বাবদ খরচের অডিট করানো বাধ্যতামূলক। এই অডিটের অনুমতি চাওয়ার পরে একমাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, কেন্দ্রের কোনও হেলদোল নেই। স্বভাবতই রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য পেতে দেরি হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, কেন্দ্রের এই উদাসীনতা রাজ্যের কাছে যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। কারণ, এমনিতেই কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। তার উপর সামনেই বিধানসভা ভোটের খরচ। আর এবার তার সঙ্গে রয়েছে এসআইআর বাবদ প্রায় ২০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচ বহনের দায়। গত লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর খরচ বাবদ ১০৮৬ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা এখনও পায়নি রাজ্য। উলটে মেলেনি অডিট অনুমোদন। সব মিলিয়ে হতবাক রাজ্যের অভিজ্ঞ আমলারা।
সূত্রের খবর, ২৬ নভেম্বর রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে চিঠি লেখা হয় কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি (ফিনান্স) সুনীলকুমার জৈনকে। তাতে টাকা পরিশোধের জন্য দ্রুত অডিট অনুমোদনের দাবি জানানো হয়। পূর্ত, শিক্ষা, পরিবহণসহ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে খরচের খুঁটিনাটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, লোকসভা ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্যে ১১২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল। ভোট নেওয়া হয়েছিল সাত দফায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ানরা রাজ্যে ছিলেন একমাসের বেশিকাল। তাঁদেরই থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য। এছাড়া ব্যবস্থা করতে হয়েছিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের। এই খরচের অডিট করিয়েই অর্থ পরিশোধের দাবি কেন্দ্রের কাছে করতে চেয়েছিল রাজ্য। তবে এজি বেঙ্গলের মত হল, আইন মন্ত্রক বা ক্যাগের অনুমোদনপত্র ছাড়া এই অডিট অসম্ভব। তাই অডিট করাবার অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার অনুরোধ আইন মন্ত্রকের কাছে জানিয়েছে রাজ্য।
অভিজ্ঞ আমলারা জানিয়েছেন, লোকসভা ভোটের ১০০ শতাংশ খরচ বহন করে কেন্দ্র। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোতায়েন হওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ খরচের টাকা পেতেও কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিল রাজ্য। বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক কাজ সেরে এই বাবদ অডিট শেষ হয়েছে হাওড়া এবং হুগলি জেলায়। বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই বাবদ হওয়া খরচের অডিট চলছে।