সংবাদদাতা, কাটোয়া: খড়ি ও ব্রহ্মাণী নদী সংস্কার না হওয়ায় নাব্যতা ক্রমশ কমছে। কোথাও নদী তীরবর্তী এলাকা দখল করে বাড়িঘর গড়ে উঠছে। আবার কোথাও জমির আয়তন বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ছোট নদীগুলি মজে গিয়েছে। জল বহন ক্ষমতা হারিয়েছে। তাতেই কাটোয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই দুই নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। বিঘার পর বিঘা বোরো ধানের জমি ডুবেছে। তিল, পাটের জমিও জলের তলায় চলে গিয়েছে। দিশেহারা চাষিরা।
১০০দিনের কাজে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এসব গ্রামীণ নদী কবে সংস্কার হবে? প্রশ্ন তুলছেন গ্রামের চাষিরা। তাঁরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নদীগুলি প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। ফসল বাঁচানো যাচ্ছে না। কাটোয়া সেচদপ্তরের টনক কবে নড়বে? কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, নদীগুলি সংস্কারের জন্য সেচদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।
গ্রামীণ নদীগুলি বাঁচানোর জন্য রাজ্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘নদী-বন্ধন’ প্রকল্পে সংস্কার করার জন্য বাজেটে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। স্থানীয়দের দাবি, কাটোয়া, মন্তেশ্বর এলাকার ছোট নদীগুলি মজে গিয়েছে। সেগুলিকে এবার ওই প্রকল্পের আওতায় এনে সংস্কার করা হোক। তাতে ফসলটা বাঁচবে। মন্তেশ্বরের বামুনপাড়া অঞ্চলের তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা কওসর শেখ বলেন, খড়ি নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। কাটোয়ার আলমপুর অঞ্চলেও ব্রহ্মাণীর নদীর জল উপচে একই পরিণতি হয়েছে।
অভিযোগ, খড়ি, ব্রহ্মাণী নদীর পাড় এলাকা বরাবর একশ্রেণির দালালরা মাটি দিয়ে ক্রমশ বুজিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই সেখানে বসতি গড়ে ফেলছে। বর্ষা এলেই গুসকরা, আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের বাসিন্দাদের ঘুম কেড়ে নেয় কুনুর নদীও। প্লাবিত হয়ে একের পর এক কৃষিজমি, বসতবাড়ি গিলে খায়। প্লাবিত হয়ে যায় গুসকরা শহর। কৃষকের ফসল নষ্টের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। নাব্যতা কমেছে কুনুরের। মজে গিয়েছে নদী। নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিং প্রয়োজন। পশ্চিম বর্ধমানের উখড়ার কাছে কুনুরের উৎপত্তি হয়েছে। তারপর কাঁকসা, লাউদোহা, আউশগ্রাম, গুসকরা হয়ে মঙ্গলকোটে প্রবেশ করছে। ব্লকের সারঙ্গপুর গ্রাম দিয়ে ঢুকে কোগ্রামে অজয়ের সঙ্গে মিশছে। আর এই নদী আয়তনে ছোট। তাই নদীর জল সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে নদীপাড়ে ধাক্কা খায়। তাতেই ভাঙন হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। ১৯৯৩-’৯৪ আর্থিক বছরে কুনুর সংস্কারের কিছুটা কাজ হয়। নাব্যতা বাড়ানোর জন্য সেসময় প্রায় ৩০লক্ষ টাকায় নদীর মাটি কাটা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। বাসিন্দাদের দাবি, কুনুর নদী অবিলম্বে সংস্কার করা দরকার।
কাটোয়া মহকুমায় ভাগীরথী ও অজয় ছাড়াও অনেক ছোট নদী রয়েছে। কেতুগ্রামের কুয়ে, ঈশানী, বাবলা নদীও ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কাটোয়ার খড়ি, ফড়ে, ব্রহ্মাণী নদী কার্যত নালায় পরিণত হয়েছে। এসব নদীগুলিতে জলের চাপ বাড়লে আশপাশের কৃষিজমি দিয়ে পাশ হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নয়ানজুলিগুলি আগে ১০০দিনের কাজে সংস্কার হতো। এখন সেগুলিও প্রায় বুজে গিয়েছে। গ্রামীণ নদীগুলির সঙ্গেও অনেক সেচখাল যুক্ত রয়েছে। বর্ষার সময় বিভিন্ন জলাধার থেকে ছাড়া জলে সেচখাল ও নদীগুলি দিয়ে এসে কৃষিজমি প্লাবিত করে।-নিজস্ব চিত্র