সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ময়ূরেশ্বরে প্রচার চলাকালীন তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বিজেপি প্রার্থীর হুমকি ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল মেজাজ হারিয়ে পুলিশের সামনেই তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি থেকে বের করে আধমরা করার হুঁশিয়ারি দেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে তৃণমূল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে ময়ূরেশ্বরের তালোয়া গ্রামে প্রচারে আসেন বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংখ্যালঘু নেতা মনিরুল ইসলাম। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাজনা বাজিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলে প্রচার চলছিল। অভিযোগ, সেইসময় গ্রামের মসজিদে নামাজ চলায় বাজনা বন্ধ করতে বলেন গ্রামের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। এনিয়ে দু’পক্ষের বচসা শুরু হয়। পাল্টা জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূলের লোকজন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি প্রার্থী থানায় ফোন করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হাজির হয় পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময় মেজাজ হারিয়ে পুলিশকে আঙুল উঁচিয়ে দুধকুমার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এরকম করে তাহলে বাড়ি থেকে বের করে আধমরা করে ফেলে রেখে যাব। আমি কাউকে বিরক্ত করব না। কিন্তু, আমাদের ছেলেদের যদি বিরক্ত করে, ঘর থেকে বের করে মেরে যাব। পুলিশের সামনেই বিজেপি প্রার্থী হুমকি দেওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এব্যাপারে দুধকুমার বলেন, আমি ওই গ্রামের সংখ্যালঘু সেলের নেতার বাড়িতে বসেছিলাম। কর্মীরা মসজিদের পাশ দিয়ে রাস্তায় যেতেই দেখেন, তৃণমূলের লোকজন বাঁশ, লাঠি, কাটারি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওরা জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপির প্রচার করা চলবে না বলে হুমকি দেয়। বাজনা ও স্লোগান বন্ধ করতে মসজিদের লোকজন বলার কথা। কিন্তু, তৃণমূলের হুমকিতে কেন আমরা প্রচার বন্ধ করব? খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে পুলিশকে ফোন করি। পুলিশকে বলেছি, ওরা এরকম করলে বাড়ি থেকে বের করে মারব। তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ রায় বলেন, মসজিদে নামাজ চলায় আমাদের লোকজন বাজনা বন্ধ করে ওই এলাকাটা পেরিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু ওরা শোনেনি। বাজনা বাজানোর পাশাপাশি জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে থাকে। এনিয়ে বচসা হয়। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছে। পুলিশের সামনে এই ধরনের হুমকি প্রমাণ করে, বিজেপি প্রার্থী আইন মানছেন না। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে। এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে জেলার পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদবকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।