Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরসভার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে! অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক, সরগরম দুবরাজপুর

দুবরাজপুর পুরসভার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান ঘিরেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে! চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দিয়েছেন সিংহভাগ কাউন্সিলার।

পুরসভার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে! অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক, সরগরম দুবরাজপুর
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: দুবরাজপুর পুরসভার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান ঘিরেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে! চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দিয়েছেন সিংহভাগ কাউন্সিলার। যা নিয়ে এখন সরগরম গোটা দুবরাজপুর। শাসকদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপি। বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের সঙ্গে কথা সমাধানের পথ খুঁজতে চাইছেন চেয়ারম্যান।  

Advertisement

পুরসভার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে ক’দিন ধরেই কাউন্সিলারদের চাপা ক্ষোভ ছিল। রবিবার দুপুরে ১৬ জনের মধ্যে বিক্ষুব্ধ ১১ জন কাউন্সিলার পুরসভায় হাজির হন। এসেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, সুবর্ণজয়ন্তীর যাবতীয় অনুষ্ঠান বয়কট করবেন। চেয়ারম্যানের অবশ্য দাবি, সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তারপরও এমন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। 
এবছর দুবরাজপুর পুরসভার পঞ্চাশ বছর পূর্তি। সেই উপলক্ষ্যে সাতদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। লিফলেটও ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজ মাধ্যমে। বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হলেও তারিখ নিশ্চিত করে, কবে কি অনুষ্ঠান হবে, কোন কোন শিল্পী আসবেন এই সংক্রান্ত কোনও আলোচনা করেননি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। দু’জনের মিলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও কয়েকজন। এমনকি, ওই অনুষ্ঠানে পুরসভার কর্মীদের কি কি দায়িত্ব থাকবে, তা নিয়েও এদিন একটি আলোচনা সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানেও ব্রাত্য রাখা হয় ১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,১২ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারদের। তারই প্রতিবাদে সুবর্ণজয়ন্তীর কোনও অনুষ্ঠানে এই ১১ জন কাউন্সিলার যোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। 
বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারদের পক্ষে শেখ নাজিরউদ্দিন বলেন, ‘১৬ তারিখের বোর্ড মিটিং এ নিয়ে কোনও আলোচনাই হয় নি। আর একটি সভায় পরিকল্পনা হল, আমরা সুন্দরভাবে একটি অনুষ্ঠান করব। তারপর আমরা মোবাইল মারফত জানতে পারছি কিছু শিল্পী আসছেন। তাঁদের বুকিং করে তারিখও ফাইনাল করা হয়ে গিয়েছে। অথচ, আমরা কিছুই জানি না। বাইরের কয়েকজন এসে মাতব্বরি করছেন। তাঁরা এমন আচরণ করছেন যেন কাউন্সিলার আমরা নই, ওঁরা। চেয়ারম্যানের পরে যদি কেউ সিনিয়র কাউন্সিলার থাকেন, সেটা আমি। তা সত্ত্বেও সামান্যটুকু সম্মান পাইনি। কেবল এই অনুষ্ঠান নয়, পুরসভার প্রায় সব ব্যাপারেই আমাদের বাদ রাখা হচ্ছে।’ বিক্ষুব্ধ আর এক কাউন্সিলার মানিক মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা একটা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে বেশকিছু অনুষ্ঠান করা হবে। কিন্তু কি কি অনুষ্ঠান হবে, তা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন চেয়ারম্যান। আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হচ্ছে না। এতে আমরা অপমানিত বোধ করছি। তাই আমরা এগারোজন যাবতীয় অনুষ্ঠান বয়কট করছি।’
পুরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পাণ্ডের পাল্টা দাবি, প্রতিটি বিষয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলেই করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম জুলাই মাসের বোর্ড মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল৷ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আবারও মিটিং হয়েছে। তারপরও ওঁরা কেন এরকম বলেছেন, জানি না। আমি ওঁদের সঙ্গে কথা বলব। যাতে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া যায়। দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, ‘দুবরাজপুর পুরসভা এখন দুর্নীতির আখড়া।  পরিষেবার কোনও কাজ হয় না। কেবলমাত্র কাউন্সিলারদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চারিতার্থ হয়। এবার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে ওঁরা নিজেরাই গোলমালে জড়িয়েছে। তৃণমূলের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশিত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ