Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিএসপির হাসপাতালের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ এলাকায়, কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রীর দ্বারস্থ দুবরাজপুরের বিধায়ক, দলেই প্রশ্নের মুখে লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের ভূমিকা

ডিএসপির হাসপাতালের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ এলাকায়, কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রীর দ্বারস্থ দুবরাজপুরের বিধায়ক, দলেই প্রশ্নের মুখে লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের ভূমিকা
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘ডিএসপি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান অবনমনের জন্য ডিএসপির শ্রমিক ও দুর্গাপুরবাসী চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়েছেন। বহু জরুরি বিভাগ বন্ধ। রোগনির্ণয় পদ্ধতিও পুরনো। চিকিৎসক, নার্সের সংখ্যা ও মেডিক্যাল সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে।’ বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা সেইলের হাসপাতালের হাঁড়ির হাল ‘হাটে’ ভাঙলেন বিজেপি বিধায়কই। দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপকুমার সাহা কেন্দ্রীয় ইস্পাতমন্ত্রী ডি কুমারস্বামীর সঙ্গে দেখা করে এব্যাপারে চিঠি দিয়ে হাসপাতালের মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। দুর্গাপুরে দলেরই বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন দুর্গাপুরের সমস্যা নিয়ে সরব হলেন তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জলঘোলা শুরু হয়েছে। ডিএসপি মেন হাসপাতালের অবস্থা নিয়েও দুই বিধায়ক পৃথক মেরুতে অবস্থান করছেন। দুর্গাপুরের বিধায়কের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই সরব হতে হল দুবাজপুরের বিধায়ককে? প্রশ্ন উঠে গিয়েছে বিজেপির অন্দরেই। 

Advertisement

দুর্গাপুরের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমএএমসি কারখানা খোলা নিয়ে শ্রমিক নেতারা বারবার উদ্যোগী হলেও কর্ণপাত করেনি নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা। বন্ধ সার কারখানা অন্য রাজ্যে খোলা হলেও দুর্গাপুরে সেই উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। গত লোকসভা ভোটে এখানে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। ২০২১ সালে বিধানসভা ভো঩টে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে জয়ী হন বিজেপি নেতা লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তিনি রাজ্য বিজেপির সম্পাদকও। কেন্দ্রীয় ফান্ড আনা, কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির পুনরুজ্জীবন নিয়ে তাঁর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। এবার দুবরাজপুরের বিধায়ক এনিয়ে সরব হওয়ায় লক্ষ্মণের ভূমিকা দলের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়ল। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর মেন হাসপাতাল শুধু এখানকার বাসিন্দা নয়, বাঁকুড়া, বীরভূমের বিস্তীর্ণ অংশের মানুষের ভরসার কেন্দ্র ছিল। সস্তায় উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতেন গরিব মানুষ। ক্রমেই সেই হাসপাতালের পরিষেবা বেহাল হয়ে গিয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কার্যত ঘটি, বাটি বিক্রি করেই গরিব মানুষকে বাধ্য হয়েই সেখানে যেতে হয়। এই হাসপাতালের উন্নয়ন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। অনুপবাবু বলেন, ডিএসপির হাসপাতালের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এনিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। দুর্গাপুরে ডিএসপির স্কুলগুলিও বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তা নিয়েও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়কের বিষয়গুলি নিশ্চয়ই বলা উচিত ছিল। 
দুর্গাপুরের বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অনুপবাবু যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সহ সভাপতি। ওঁকে বহু মানুষ সমস্যার কথা বলেছেন। সেকারণে তিনি দুর্গাপুরের বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, কেন চিঠি দিয়েছেন, কী বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন আমার জানা নেই। এখন হাসপাতালের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আমি প্রতিনিয়ত হাসপাতালের বিষয়টি নজরে রাখি।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, এখানকার বিজেপি বিধায়ক এলাকার সমস্যা জানবেন না এটাই তো স্বাভাবিক। বিজেপি বিধায়করা তো এলাকায় থাকেন না। সবা‌ই কলকাতায় থাকেন। অনুপবাবুকে ধন্যবাদ, তিনিও আমাদের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। বাংলা তথা দুর্গাপুরকে কীভাবে বঞ্চনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার তা এই হাসপাতালই প্রমাণ। এখন হয়তো ভোটের আগে এনিয়ে আলোচনা করে মানুষের মন গলানোর চেষ্টা হবে। তবে মানুষকে আর বোকা বানানো যাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ