সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়ল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮০০ ফুট উচ্চতায় বক্সা পাহাড়ের ১৩টি পাহাড়ি গ্রামে সামনের সপ্তাহ থেকে চালু হচ্ছে দুয়ারে রেশন পরিষেবা। রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বক্সা পাহাড়ে একটিই মাত্র রেশন দোকান আছে। জেলা খাদ্যদপ্তরের নির্দেশে সদরবাজারে থাকা সেই রেশন দোকান থেকেই পাহাড়ের ১৩টি দুর্গম গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে এবার রেশন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
বক্সা পাহাড়ের ১৩টি গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের মতো। ১৩টি দুর্গম গ্রামের বাসিন্দাদের পাহাড়ের পাকদণ্ডি বেয়ে সদরবাজারে এসে রেশন সামগ্রী সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে হয়। পাহাড়ে নেটওয়ার্কেরও সমস্যা। বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দারা আসন্ন বর্ষা মরশুমের কথা ভেবে উদ্বেগে আছেন। কারণ, বর্ষায় ধস নেমে পাহাড়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
ক্ষোভে বক্সা পাহাড়ের ১৩টি জনপদের বাসিন্দারা সম্প্রতি দুয়ারে রেশন পরিষেবার দাবি তুলে জেলা খাদ্য নিয়ামককে স্মারকলিপি দেয়। স্থানীয় গ্রাহকদের সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে সামনের সপ্তাহ থেকে এবার বক্সা পাহাড়ে সেই পরিষেবা চালু হচ্ছে।
বক্সার সদর বাজারের ওই রেশন ডিলারের মালিক মনমায়া থাপা। ওই রেশন ডিলারের হয়ে তাঁর আত্মীয় সঞ্জয় থাপা বলেন, আমরা সামনের সপ্তাহ থেকেই বক্সা পাহাড়ের গ্রামে গিয়ে রেশন সামগ্রী পৌঁছে দেব। তবে পাহাড়ে পোর্টারের যথেষ্ঠ অভাব। ফলে সদর বাজার থেকে বক্সা পাহাড়ের আদমা, চুনাভাটি ও তাসিগাঁওয়ের মতো দুর্গম গ্রামগুলি অনেকটা দূরে। ফলে এই পরিষেবা কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে তা বুঝতে পারছি না। তবে আমরা চেষ্টা করব।
আলিপুরদুয়ার জেলা খাদ্য নিয়ামক সুব্রত নন্দী বলেন, পোর্টারের অভাবে বক্সা পাহাড়ের প্রতিটি গ্রামে রেশন সামগ্রী পৌঁছে দিতে সমস্যা হচ্ছিল। এবার সেই ব্যবস্থা করে সদরবাজারে থাকা সংশ্লিষ্ট রেশন ডিলারকে পাহাড়ের ১৩টি গ্রামে রেশন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।