নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: চারমাসের পুত্র সন্তানকে আঁকড়ে ধরে মাইক্রোফোন হাতে নিজের মা হওয়ার অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন শিক্ষিকা অর্পিতা রায়। ১০ মাস নয়, তাঁর গর্ভাবস্থা তিন বছরের! তিন বছর আগে সন্তান দত্তক নেওয়ার জন্য সব প্রশাসনিক ফর্মালিটি পূরণ করেছিলেন তিনি। আশ্বাস মিলেছিল তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে সদ্যোজাতই। তিন বছরের অপেক্ষা শেষে এবছর দুর্গাপুজোর একাদশীর দিন আসে সুখরব। অর্পিতকে (নাম পরিবর্তিত) কোলে পান অর্পিতা। তিনি বলেন, প্রশাসনকে কী বলে ধন্যবান দেব! তারা আমাকে মাতৃত্বের অনুভূতি দিল। তিনি বলেন, ১৫ বছর বহু চিকিৎসার পরও মা হতে পারিনি। প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়ি। প্রশাসন আমার মা না হওয়ার যন্ত্রণা মুছিয়ে দিয়েছে।
Advertisement
শুক্রবার আসানসোল ইউথ হস্টেলে প্রশাসনের উদ্যোগে শিশু দত্তক নিয়ে একটি সচেতনতা কর্মসূচি হয়। মূলত শিশু পাচার রোধ ও সরকারি ভাবে সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই উদ্যোগ। সেখানেই সন্তান দত্তক পাওয়া অভিভাবক ও যাঁরা সন্তান দত্তক নিতে আবেদন করেছিলেন তাঁদের ডাকা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতেই নিজের অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন শিক্ষিকা। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, শুধু অর্পিতা দেবী নন, প্রশাসনের তৎপরতায় সাম্প্রতিকালে ১৪ শিশুকে দত্তক দেওয়া হয়েছে। সেই সব শিশু ও অভিভাবকদের নিয়ে যেন আনন্দের হাট বসেছিল আসানসোল ইউথ হস্টেলে। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয়কুমার পাল, জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি তথা বিচারক আম্রপালি চক্রবর্তী, সমাজকল্যাণ আধিকারিক নিমাইচন্দ্র রায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের বাবা, মা হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরছিলেন তাঁরা। পুলিস কর্মী অসীম পাত্র ও জবা পাত্র তো নিজের দত্তক নেওয়া সন্তানকে খাবার খাওয়াতে ব্যতিব্যস্ত। তার মাঝেই বলেন, ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান। আনন্দ তো হবেই। ওই এখন আমাদের সবকিছু। হস্টেলে সাজানো একটার পর একটা বেলুন তুলে খেলা শুরু করেছে দুই দত্তক ভাইবোন অতসী ও ঋষি (নাম পরিবর্তিত)। তাদের কথায় ওড়িয়া ভাষার টান। সন্তানটির এখন আইনি বাবা অসীমকুমার দে। তিনি বলেন, প্রভু জগন্নাথই ওদের প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। ব্যবসায়ী বলেন, তিন বছর আগে ১৪ বছরের মেয়ে সামান্য জ্বরে মারা যায়। স্ত্রী গর্ভবতী হলেও সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। স্ত্রী তখন মানসিক অবসাদগ্রস্ত। দত্তক নিতে আর্জি করি। দু’টি সন্তান পেয়েছি আমরা। স্ত্রীও সন্তান শোক কাটিয়ে উঠেছে। জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক বিজন কুমার বলেন, দেখবেন সন্তানদের কোনও রকম অবহেলা করবেন না।
জেলা শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের প্রোটেকশন অফিসার রাজকুমার মিশ্র পুরো বিষয়টি তুলে ধরে জানান, বৈধ উপায়েই আপনারা সন্তানের বাবা-মা হতে পারবেন। প্রশাসনের উপর একটু ভরসা রেখে ধৈর্য ধরুন।
জেলা শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের প্রোটেকশন অফিসার রাজকুমার মিশ্র পুরো বিষয়টি তুলে ধরে জানান, বৈধ উপায়েই আপনারা সন্তানের বাবা-মা হতে পারবেন। প্রশাসনের উপর একটু ভরসা রেখে ধৈর্য ধরুন।



