সংবাদদাতা, ঘাটাল: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যন্য নজির সৃষ্টি হল দাসপুরে। শ্রীরামনগর গ্রামে শ্মশানের চুল্লির শেড এবং প্রতীক্ষালয় তৈরিতে বাধা দিচ্ছিলেন গ্রামবাসীদেরই একাংশ। সেই শেড ও প্রতীক্ষালয় তৈরিতে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন মুসলিমরা। বৃহস্পতিবার দাসপুর থানার শ্রীরামনগরের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা পুলিস ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে শেড ও প্রতীক্ষালয় তৈরির কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করলেন। তৃণমূলের দাসপুর-২ ব্লকের খানজাপুর অঞ্চল সভাপতি জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শ্মশান চুল্লির শেড ও প্রতীক্ষালয় তৈরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা যে ভাবে সহযোগিতা করেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’
Advertisement
বেলিয়াঘাটা-কামালপুর রাস্তার পাশেই শ্রীরামনগর গ্রামে ১১৬ শতক জায়গার উপর দীর্ঘদিন ধরে একটি শ্মশান রয়েছে। ২০১৩-’১৮ সময়কালে গ্রাম পঞ্চায়েত ওই এলাকায় চুল্লির উপর একটি শেড ও শবযাত্রীদের জন্য প্রতীক্ষালয় তৈরির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ওই গ্রামের কিছু মানুষ বিগত কয়েক বছর ধরে ওই শ্মশানে দাহ করতে বাধা দিয়ে আসছে। তারাই শেড ও প্রতীক্ষালয় তৈরিতেও বাধা দিচ্ছিল। গত বছর ১৪ জানুয়ারি ওই শ্মশানে দীপা কর (৫৬) নামে এক গৃহবধূর শবদাহ করার বিরোধিতা করে শুরু হয়েছিল তীব্র গন্ডগোল। গন্ডগোল থামাতে নেমেছিল র্যাফ। অবশেষে জটিলতা কাটাতে এগিয়ে আসেন বেশ কিছু মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ। তাঁদের আন্তরিক সহযোগিতায় দীপাদেবীর শব দাহ করা সম্ভব হয়েছিল। ওই গ্রামের বাসিন্দা শেখ আক্তার আলি, শেখ মুস্তাকিন আলি, শেখ রজব আলি প্রমুখ বলেন, ‘আমাদের মুসলিম পাড়ার সামনেই ওই শ্মশানটি। বাবা, ঠাকুরদার মুখ থেকে শুনে আসছি, ওখানে হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে শবদাহ করে আসছেন। তাতে আমাদের কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে দেখছি, আমাদের গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা ওই শ্মশানে শেড তৈরিতে বাধা দিচ্ছেন। এদিন আমরা নিজেরা উপস্থিত থেকে ভিত খোঁড়ার কাজ শুরু করিয়েছি।’ খানজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনিতা পাত্র বলেন, ‘ওই গ্রামের কিছু মানুষের বিরোধিতার জন্য আমরা ওখানে নির্মাণটি করতে পারছিলাম না। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলে এদিন থেকে পাঁচ লক্ষ চার হাজার ৩০৩ টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। ওই বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানাই।’বিগত কয়েক বছর ধরে ওখানে শবদাহ এবং চুল্লির শেড তৈরি নিয়ে বহু গন্ডগোল হয়েছে, তাই এদিন সকাল থেকেই ওখানে বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ছিলেন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের উপস্থিততে শেডের জন্য ভিত খোঁড়া শুরু হয়। আখতার জানান, তাঁদের বাড়ির পাশেই ওই শেড হচ্ছে। তাঁরা প্রত্যেক দিন দাঁড়িয়ে থেকে ওই শেডের কাজ শেষ করাবেন।



