সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুর-২ ব্লকের বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বস্তাপিছু কম চাল সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা জানান, প্রায় ৩০শতাংশ কম ওজনের চালের বস্তা সরবরাহ হচ্ছে। ওই চাল দিয়ে কীভাবে তাঁরা উপভোক্তাদের সারা মাস রান্না করা খাবার সরবরাহ করবেন-তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। ওই ব্লকের সিডিপিও অভিমন্যু মণ্ডল ফোন ধরেননি। তবে বিডিও প্রবীরকুমার শীট বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বস্তাপিছু কম চাল দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি সিডিপিও’র সঙ্গে কথা বলব। রাজ্য সরকার মনোনীত ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খিচুড়ির চাল পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি চাল থাকার কথা। কিন্তু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অভিযোগ, চালের বস্তায় ওজনের ঘাটতি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে প্রতি বস্তায় ৪৬-৪৭ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এবার সেই ঘাটতি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি সরবরাহ করা বস্তায় ১৫-১৬ কেজি চাল কম পাওয়া যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা চালের বস্তা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার পর তা ওজন করে দেখিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ, এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ঠিকাদারের কর্মীরা ওজন না করেই চাল নামিয়ে রেখে চলে যাচ্ছেন। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কথায় কান দেওয়া হচ্ছে না।দাসপুর-২ ব্লকের বেশ কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়িকারা জানিয়েছেন, তাঁরা দু’জনই মহিলা হওয়ায় ঠিকাদারের কর্মীরা তাঁদের প্রতিবাদে কর্ণপাত করছে না। প্রতি বস্তায় এত চাল কম থাকছে যে, উপভোক্তাদের সারা মাসের খাবার রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার প্রতি মাসে উপভোক্তাদের জন্য মাথাপিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বরাদ্দ করে। সেই পরিমাণ চাল না পাওয়ায় রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান না হলে উপভোক্তাদের ঠিকমতো খাবার সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়বে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা সমস্যা মেটাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন। এই ব্লকের কিসমত কুরানিঘাট ২০৭ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী চায়না দলুই বলেন, এবার চাল দিতে আসার সময় বারবার ওজন করে দেওয়ার কথা বলি। কিন্তু ওরা বলে, ওজন করার যন্ত্র নেই। তাই ওজন করে দিতে পারবে না। আমি ওজন করতেই দেখি, ৫০কেজির বস্তায় মাত্র ৩৫ কেজি করে চাল রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



