সংবাদদাতা, ঘাটাল: সকাল থেকেই এলাকায় পচা গন্ধ ছড়াচ্ছিল। কৌতূহলবশে পড়শিরা জানালা ঠেলে দেখলেন, বিছানায় পাশাপাশি রয়েছে স্বামী-স্ত্রীর প্রাণহীন দেহ। শুক্রবার দুপুরে দাসপুর থানার রানিচক গ্রামে এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে দরজা ভেঙে জোড়া পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। মৃত দম্পতির নাম শেখর মণ্ডল(৬৫) ও শিপ্রা মণ্ডল(৬১)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, তাঁরা দু’জনে তিন-চারদিন আগে বিষপান করে আত্মঘাতী হয়েছেন। দু’টি দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। বেশ কয়েকদিন ধরে মণ্ডল দম্পতির দেখা পাচ্ছিলেন না স্থানীয়রা। এদিন সকালে তাঁদের বাড়ির সামনে থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। সেই দুর্গন্ধে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, আশপাশে কোথাও কোনও পশু মারা গিয়েছে। কিন্তু খোঁজাখুঁজি করেও এমন কিছুর হদিস না পাওয়ায় গন্ধ অনুসরণ করে তাঁরা ওই বাড়ির দিকে এগিয়ে যান। ওই পরিবারের এক প্রতিবেশী জানান, যতই শেখরবাবুর বাড়ির দিকে এগোনো হচ্ছিল, ততই দুর্গন্ধ তীব্র হচ্ছিল। তাতেই আমাদের সন্দেহ বাড়ে। এরপর বাড়ির একটি জানালা জোর দিয়ে ঠেলতেই খুলে যায়। তখন দেখা যায়, একটি বিছানায় পাশাপাশি দু’টি দেহ রয়েছে। এরপরই পুলিসে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, ওই দম্পতির কোনও সন্তান ছিল না। শেখরবাবু রানিচক থেকে পড়াশোনা করার পর বরাবর কলকাতায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতেন। ১০বছর আগে তাঁরা ফের রানিচকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছেন। দু’জনই বাড়িতে থাকছেন। বর্তমানে তাঁদের সেই অর্থে আয়ের কোনও সুযোগ ছিল না। তাঁরা চরম দারিদ্র্য আর একাকীত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
Advertisement
প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে ওই দম্পতিকে বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। কয়েকদিন আগে এক পড়শির বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানেও ওই দম্পতিকে দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে আর তাঁদের দেখা যায়নি।
পুলিসের অনুমান, নিঃসঙ্গ জীবনযাপন ও আর্থিক অনটনের কারণেই ওই দম্পতি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। মণ্ডল দম্পতির এই মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা। তাঁদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি হুগলি জেলা থেকেও অনেক মানুষ তাঁদের বাড়ির সামনে ভিড় করেন।
পুলিসের অনুমান, নিঃসঙ্গ জীবনযাপন ও আর্থিক অনটনের কারণেই ওই দম্পতি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। মণ্ডল দম্পতির এই মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা। তাঁদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি হুগলি জেলা থেকেও অনেক মানুষ তাঁদের বাড়ির সামনে ভিড় করেন।



