Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিসেম্বরে জলপাইগুড়িতে আসছেন ভুটানের প্রতিনিধিরা, দু’দিনের বৈঠক

ডিসেম্বরে জলপাইগুড়িতে আসছেন ভুটানের প্রতিনিধিরা, দু’দিনের বৈঠক
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ডিসেম্বরে জলপাইগুড়িতে আসছেন ভুটানের প্রতিনিধিরা। সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি নদী, পরিবহণ, পর্যটন সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
Advertisement
জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ১২-১৩ ডিসেম্বর চালসায় একটি বেসরকারি রিসর্টে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক হতে চলেছে। বৈঠকে ভুটান ঘেঁষা উত্তরবঙ্গের তিন জেলা জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। কারা থাকবেন, জলপাইগুড়ির ডিভিশনাল কমিশনার তা চূড়ান্ত করবেন। একইভাবে উত্তরবঙ্গ লাগোয়া ভুটানের সামসি, ফুন্টসেলিং জেলার প্রশাসনিক কর্তারাও হাজির থাকবেন ওই বৈঠকে। 
বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, ভুটান প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল এখানে আসছে। এখনও পর্যন্ত ১২-১৩ ডিসেম্বর দু’দিন বৈঠকের দিন ঠিক হয়েছে। মূলত সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেইসঙ্গে নদী, পরিবহণ, পর্যটনের বিষয়গুলি নিয়েও কথা হবে। তবে ভুটানের তরফে কারা বৈঠকে যোগ দিতে আসছেন, তার তালিকা এখনও এসে পৌঁছয়নি। আমাদের তরফে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং জেলা ওই বৈঠকে যোগ দেবে।
ভুটানের সঙ্গে একাধিক ইস্যু হয়েছে উত্তরবঙ্গের। প্রথমত, ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীগুলি সারা বছর সরু ফিতের মতো থাকলেও বর্ষায় তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। তৈরি হয় বন্যা পরিস্থিতি। ওইসব নদী ভুটান পাহাড় থেকে বড় বড় বোল্ডার বয়ে নিয়ে এসে তা জমা করে ডুয়ার্সের বুকে। এতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীখাত। এই সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার ইন্দো-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠনে উদ্যোগী হয়েছে। দু’দেশের বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরা হতে পারে। এছাড়াও রয়েছে ডলোমাইটের সমস্যা। ডুয়ার্সের তুলসীপাড়া, রিয়াবাড়ির মতো মারাত্মক ডলোমাইট প্রভাবিত অনেক চা বাগান রয়েছে। অভিযোগ, ভুটান থেকে নেমে আসা নদীবাহিত ডলোমাইটের কারণে ডুয়ার্সের বহু চা বাগানের অস্তিত্ব বিপন্ন। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, দু’দেশের জয়েন্ট টেকনিক্যাল টিম বা জয়েন্ট গ্রুপ অব এক্সপার্ট কমিটিকে দিয়ে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এরজন্য দরকার ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন। বৈঠকে এবিষয়টি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
উত্তরের পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল বলেন, ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসা অনেকটা নির্ভর করে ভুটানের উপর। কারণ, অনেকেই আছেন যাঁরা ভুটানে ঘুরতে যাওয়া কিংবা ফেরার পথে ডুয়ার্সে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যান। কিন্তু ভুটানে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় পর্যটকদের ক্ষেত্রে দিনে মাথাপিছু ১২০০ টাকা করে ফি ধার্য করা হয়েছে। এতে ভুটানের যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা। আমরা চাইছি, দিন পিছু মোটা অঙ্কের ফি বাতিল করা হোক। তাছাড়া ভুটানের গাড়ি আমাদের এখানে অবাধে ঘুরছে। কিন্তু এখান থেকে ভুটানে গাড়ি ঢুকলে প্রচুর টাকা দিতে হয়। এগুলিও বৈঠকে আলোচনা হোক।
সম্পর্কিত সংবাদ