Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দশ বছর ধরে অস্তিত্ব না থাকলেও কেন্দ্রের তালিকায় ঝাড়গ্রাম এখনও ‘মাওবাদী’ জেলা  

দশ বছর ধরে অস্তিত্ব না থাকলেও কেন্দ্রের তালিকায় ঝাড়গ্রাম এখনও ‘মাওবাদী’ জেলা
 
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রাজনৈতিক হিংসার দিনলিপি শেষ হয়েছে।একদশকে উন্নয়নের হাত ধরে অশান্তির ছবি বদলে গিয়েছে। জঙ্গলমহল এখন শান্ত। অথচ কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্টে ঝাড়গ্রাম এখনও ‘মাওবাদী’ অধ্যুষিত জেলা! মাওবাদী অধ্যুষিত হিসেবে জেলাকে  চিহ্নিত করার পিছনে কেন্দ্রের রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা থেকে জেলার তৃণমূল নেতারা। 
Advertisement
বামআমলের শেষ দশকে  জঙ্গলমহলে হিংসার রাজনীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। অনুন্নয়ন,দারিদ্র ও স্থানীয় বামনেতাদের অত্যাচারের সুযোগ নিয়ে   মাওবাদীরা এলাকায় ঢুকে পড়ে। জেলার গ্ৰামীণ এলাকায় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর ক্যাম্প গড়ে উঠতে থাকে। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের মাঝে পড়ে যান গ্ৰামের সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে লালগড়কে মাওবাদী রাজনীতির এপিসেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছিল। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গোপন ঘাঁটিতে সিপিআই (মাওবাদী) দলের একটি বিশেষ প্লেনাম হয় ২০০৮-এর এপ্রিল মাসে। প্লেনামে লালগড় এলাকায় জনভিত্তি তৈরি কাজ আশানুরূপ না হওয়ায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও সেই সিদ্ধান্ত ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বরের ঘটনায় রাতারাতি পাল্টে যায়। লালগড় এলাকার ছোটপেলিয়া গ্রামেমাওবাদী নেতা করণ হেমব্রমের খোঁজে পুলিসেরগ্ৰামে ঢোকাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তা বৃহৎ আন্দোলনের রূপ নেয়। মাওবাদী নেতারা  কাঙ্ক্ষিত সেই আন্দোলনের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। লালগড়কে ‘দ্বিতীয় নকশালবাড়ি’ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মাওবাদীরা এলাকায় সশস্ত্র প্লাটুন গড়ে তোলে। উল্টোদিকে গ্ৰামের পর গ্ৰামে সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর ক্যাম্প গড়ে উঠতে থাকে। ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক খুনোখুনির লড়াই শুরু হয়। তার জেরে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। রাজ্য তৃণমূলের সরকার আসার পরেই হিংসার রাজনীতির ছবি বদলাতে শুরু করে। জেলাজুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। খুনের রাজনীতিতে যেসব যুবককে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের সরকার চাকরি ও পুনর্বাসন দেয়।  হিংসার রাজনীতি কড়া হাতে দমন করা হয়। জঙ্গলমহলে এরপরেইশান্তি ফিরে আসে। সারাদেশে ১০টি রাজ্যে মাওবাদী গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গের সাফল্যের ছবি সবচেয়ে ‘উজ্জ্বল’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ২০১০ সালে দেশের ১২৬টি জেলা মাওবাদী ‘উপদ্রুত’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। সেই সংখ্যা কমে ৩৮-এ নেমে এসেছে।ছত্তিশগড় রাজ্যেএখনও মাওবাদী প্রভাব সবচেয়ে‌। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র জেলা হিসেবে ঝাড়গ্রামের নাম উল্লেখ রয়েছে। মাওবাদী রাজনীতির কোনও অস্তিত্ব না থাকলেও উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত করাকে জেলা নেতৃত্ব ভালোভাবে দেখছে না। 
জেলার তৃণমূল কংগ্রেসেরসহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, হার্মাদ বাহিনী ও বিভিন্ন কমিটির আড়ালে থাকা মাওবাদীদের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে এই এলাকার বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। আমরাএখনও সেই ঘটনা ভুলে যায়নি। রাজনৈতিক হিংসার কোনও ঘটনা জেলায় নেই।মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, কেন্দ্র সরকার জঙ্গলমহলের মানুষকে এখনও মাওবাদী তকমা দিয়ে চিহ্নিত করতে চাইছে। গত একদশক ধরে জেলায় কোন রাজনৈতিক হিংসা ও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। উন্নয়ন এলাকার মানুষের জীবনে শান্তি এনে দিয়েছে।কিন্তু কিছু শক্তি রাজ্য তথা জেলাকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। এসপি অরিজিৎ সিনহা বলেন,এই জেলায় মাওবাদী কার্যকলাপ নেই। আমাদের নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। 
সম্পর্কিত সংবাদ