Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অ্যামিনিটিজ ফি বকেয়া, ওল্ড দীঘার ৩ হোটেলের পর্যটকদের বের করে তালা ঝোলাল ডিএসডিএ, ক্ষুব্ধ জেলাশাসক

অ্যামিনিটিজ কর বকেয়া থাকায় বুধবার রাত ৯টায় ওল্ড দীঘার তিনটি হোটেল থেকে পর্যটকদের বের করে তালা ঝোলাল ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষ। গোটা ঘটনায় বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।

অ্যামিনিটিজ ফি বকেয়া, ওল্ড দীঘার ৩ হোটেলের পর্যটকদের বের করে তালা ঝোলাল ডিএসডিএ, ক্ষুব্ধ জেলাশাসক
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অ্যামিনিটিজ কর বকেয়া থাকায় বুধবার রাত ৯টায় ওল্ড দীঘার তিনটি হোটেল থেকে পর্যটকদের বের করে তালা ঝোলাল ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষ। গোটা ঘটনায় বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। রাতে হোটেল থেকে পর্যটকদের বের করে দেওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েন। ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষের এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ান হোটেল ব্যবসায়ীরা। পর্যটকরাও এর প্রতিবাদ করেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, জেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ এরকম একটি অভিযান চালিয়েছে। গোটা ঘটনায় জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের না জানিয়ে ডিএসডিএ হোটেলে তালা দিয়ে সঠিক কাজ করেনি। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

দীঘার হোটেলে প্রতিদিন পর্যটকপিছু ১০টাকা অ্যামিনিটিজ ফি দিতে হয় দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে। আগে ডিএসডিএ-র কর্মীরা হোটেল থেকে ওই ফি সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি চালু হয়। অভিযোগ, ওল্ড দীঘার ওই তিনটি হোটেল ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষকে অ্যামিনিটিজ ফি দিচ্ছিল না। এনিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। তারপর বকেয়া আদায়ের জন্য নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। বকেয়া মেটানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তা না মেটানোয় বুধবার রাত ৯টা নাগাদ ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষ পুলিস নিয়ে ওই তিনটি হোটেলে পৌঁছে যায়। পর্যটকদের ব্যাগপত্র গুছিয়ে হোটেলের বাইরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই তিনটি হোটেলে কিছু সমস্যা আছে বলে পর্যটকদের জানানো হয়। তারপর তাঁদের বাইরে বেরতে বাধ্য করা হয়। সেই সময় অধিকাংশ পর্যটকই রাতের খাওয়া দাওয়া সারেননি। অত রাতে হোটেল থেকে বেরিয়ে তাঁরা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে সরকারি অফিসার-কর্মীদের প্রশ্নও করেন। কিন্তু ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষ কোনও জবাব না দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
রাতে হোটেলে তালা ঝোলানোর খবর পেয়ে হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা পৌঁছে যান। তাঁরা ডিএসডিএ-র অফিসার ও কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান। ঘটনাস্থলে যান ডিএসডিএ-র এগজিকিউটিভ অফিসার নীলাঞ্জন মণ্ডল এবং দীঘা মোহনা কোস্টাল থানার ওসি প্রবীর সাহা। রাতে হোটেলে তালা ঝুলিয়ে পর্যটকদের হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ করেন ওল্ড দীঘা অ্যাসোসিয়েশনের নেতা সুশান্ত পাত্র, দেবকুমার দাস প্রমুখ। চাপের মুখে পড়ে রাত ১১টায় তিনটি হোটেলের তালা খুলে দেওয়া হয়। তবে, যেসব পর্যটক ওই তিন হোটেলে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই চারচাকা গাড়িতে বাড়ির পথে রওনা দেন। কেউ কেউ অন্য হোটেলে চেক ইন করেন।
বুধবার রাতের ঘটনায় দীঘাজুড়ে প্রবল হইচই শুরু হয়। পর্যটকদের যেভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে, তা নিয়ে সোচ্চার হয় হোটেল মালিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার ডিএসডিএ অফিসে এনিয়ে মিটিং হয়। সেখানে ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হোটেল মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মিটিং হয়। জেলাশাসকের ধমকের জেরে সুর নরম করে ডিএসডিএ কর্তৃপক্ষ। আগের রাতের ঘটনার পর ভুলস্বীকারও করে।
ডিএসডিএ-র এগজিকিউটিভ অফিসার নীলাঞ্জনবাবুকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। হোটেল মালিক সংগঠনের নেতা সুশান্তবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘায় পর্যটকদের স্বার্থে নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আর ডিএসডিএ-র অফিসার-কর্মীরা সেইসব পর্যটকদের হেনস্তা করে রাতে হোটেলছাড়া করছেন। আমরা এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ