Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেডিক্যালে রাতে মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ছে মদ্যপরা, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাতের অন্ধকারে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে বাড়ছে মদ্যপদের উৎপাত। শুধু তাই নয়, তারা মহিলা ওয়ার্ডেও ঢুকে পড়ছে। ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হচ্ছে রোগী ও তাদের আত্মীয়দের।

মেডিক্যালে রাতে মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ছে মদ্যপরা, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাতের অন্ধকারে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে বাড়ছে মদ্যপদের উৎপাত। শুধু তাই নয়, তারা মহিলা ওয়ার্ডেও ঢুকে পড়ছে। ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হচ্ছে রোগী ও তাদের আত্মীয়দের। তেমনি রাতে ডিউটিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বভাবতই মেডিক্যালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরজিকর কাণ্ডের পর মেডিক্যালগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। এরপরই গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে। আগে পুরনো ও সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিং মিলিয়ে ৯৬টি সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল। হাসপাতাল, অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং ও আট কিলোমিটার দূরে থাকা চকমণ্ডলা গ্রামের হস্টেল মিলিয়ে আরও ৩৫০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসেই মেডিকেলে পুলিস ক্যাম্পও চালু হয়। এছাড়া হাসপাতালের ১৩০ জন বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেন পুলিস কর্তারা। জরুরি বিভাগ, মেল ও ফিমেল মেডিসিন, সার্জারি, প্রসূতি সহ সমস্ত ওয়ার্ডে ঢোকার মুখে কোলাপসিবল গেট বসানো হয়। মেডিক্যাল চত্বরজুড়ে লাগানো হয় লাইট। রাতের সাথী চালু হয়। যাতে রোগীর আত্মীয় ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপত্তার অভাব বোধ না করেন।
কিন্তু, এতকিছুর পরও মদ্যপদের অত্যাচার বাড়ছে মেডিক্যাল চত্বরে। তাঁরা নিরাপত্তা কর্মীদের নজর এড়িয়ে মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ছে। মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। গত রবিবার রাত ১টা নাগাদ একজন মদ্যপ মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ে। সে রোগীর আত্মীয়দের নানা কথা বলে। এমনকী সে নিজেকে মেডিক্যালের স্টাফ বলে পরিচয় দেয়। ভয় পেয়ে ওই ওয়ার্ডে থাকা একজন গৃহবধূ ফোন করে হাসপাতাল চত্বরে থাকা তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানান। তাঁর কাছ থেকে খবর পেয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা দৌড়ে যেতেই ওই মদ্যপ পালিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওইদিন ডিউটিতে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মী বলেন, রাত দেড়টা নাগাদ একজন রোগীকে ভর্তি করাতে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন। তাঁদের সঙ্গে পেসেন্ট পার্টি সেজে ওই মদ্যপ ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েছিল। আমরা জানার পর ওই ওয়ার্ডে যেতেই ওই মদ্যপ যুবক গেট থেকে বেরিয়ে দৌড়তে শুরু করে। আমরা সাতজন নিরাপত্তা রক্ষী ও রোগীর আত্মীয়রা দৌড়েও তাকে ধরতে পারিনি। এক রোগীর আত্মীয় মাসেকুল শেখ বলেন, রাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনও ওয়ার্ডেই রোগীর আত্মীয়দের ঢুকতে দেওয়া হয় না। সেখানে একজন মদ্যপ নিরাপত্তা কর্মীদের নজর এড়িয়ে মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ছে। এতে যে কোনও দিন অঘটন ঘটে যেতে পারে। এঘটনায় রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন রাতে ডিউটিতে আসা মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরাও। এব্যাপারে মেডিক্যালের এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, যাদের কাছে ভিজিটিং কার্ড থাকবে তাদেরই ওয়ার্ডে ঢুকতে দেওয়ার কথা। এরপর নজর এড়িয়ে কেউ ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ছে। নিরাপত্তা কর্মীদের আরও সর্তক হতে হবে। হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পও রয়েছে। কিন্তু, বড়সড় ঝামেলা হলে পুলিশ আসে। আমরা স্থায়ী ক্যাম্প ও অভিযোগ করা যায় তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। ঘরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। রাতের দিকে বিল্ডিংয়ের গেটে যাতে পুলিশ কর্মী থাকে সে ব্যাপারে বলা হবে। 

Advertisement

( রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। -নিজস্ব চিত্র)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ