নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠল কলকাতা পুলিসের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রাণ বাঁচাতে গৃহবধূ দুই মেয়েকে নিয়ে পাশেই বাপের বাড়িতে গিয়ে উঠলে সেখানেও হানা দেন ওই কনস্টেবল। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে শ্বাসরোধের চেষ্টা, বাড়ি ভাঙচুর, স্কুটারে অগ্নিসংযোগ পর্যন্ত করে স্বামী হেমন্ত বৈদ্য। হেমন্ত কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক হেড কোয়ার্টারে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে শুধু পারিবারিক হামলা নয়, বরানগর থানায় গিয়ে কর্তব্যরত পুলিস কর্মীদেরও জেলে ভরার হুমকি দেয় সে। পুলিস হেমন্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বরানগরের একে মুখার্জি রোডের বাসিন্দা সাধন দাস। প্রায় ১১ বছর আগে দেখাশোনা করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর মীর্জাপুরের বাসিন্দা হেমন্ত বৈদ্যর সঙ্গে মেয়ে সঙ্গীতার বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। হেমন্ত কলকাতা পুলিসের কনস্টেবল। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অভিযুক্ত স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বছর চারেক হেমন্ত শ্বশুরবাড়ির কাছেই ফ্ল্যাট কিনে পরিবার নিয়ে থাকতে শুরু করে। অভিযোগ, এখানে আসার পরেও স্ত্রীর উপর নির্যাতন কমেনি। গত রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ এই পুলিসকর্মী মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রী সঙ্গীতাদেবীকে মারধর শুরু করে। অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি বাপের বাড়িতে চলে যান। এরপর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হেমন্ত শ্বশুরবাড়িতে যায়। অভিযোগ, সেখানে স্ত্রীকে ফের মারধর করে এবং শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করে। পরে ওই বাড়ি ভাঙচুর করে স্কুটারে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গীতাদেবী বরানগর থানায় গিয়ে সমস্ত ঘটনা জানালে পুলিস এসে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিস কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে জেলে ভরার হুমকি দেয় হেমন্ত। তার আচরণে স্তম্ভিত পুলিস অফিসাররা। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার অভিযুক্তকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। সঙ্গীতাদেবী বলেন, বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার করত। এখানে আসার পর তা আরও বেড়ে গিয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতেই সেদিন থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। ওর শাস্তি চাই।



