সংবাদদাতা, করিমপুর: রাত দশটা বাজলেই বন্ধ হয়ে যায় করিমপুর বাজারের ওষুধের দোকান। এমনকি করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতাল লাগোয়া কোনও অসুধের দোকান খোলা থাকে না। ফলে প্রতিদিন রাতবিরেতে বিপদে পড়তে হয় হাসপাতালে ভর্তি বহু রোগী এবং তার পরিবারকে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তবর্তী করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের উপরে নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ চিকিৎসার জন্য নির্ভরশীল। চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড়শো রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু মাঝে মাঝেই রাতের বেলা ওষুধের সমস্যায় ভুগতে হয় বহু মানুষকে। রোগীর পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে দেওয়া ওষুধ ছাড়াও এখন স্যালাইন বা ইনজেকশন সিরিঞ্জ বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়। কোনও রোগীর যদি গভীর রাতে প্রয়োজনীয় ওষুধের দরকার হয় তাহলে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। কারন, হাসপাতাল চত্বরের ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে সব ওষুধ মেলে না। সেক্ষেত্রে বাইরের দোকান বন্ধ থাকায় সেই ওষুধ পাওয়া যায় না। রাত সাড়ে দশটার পর করিমপুর বাজারের সমস্ত ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন কেউ না কেউ এই সমস্যার সম্মুখীন হন। কয়েকদিন আগে অসুস্থ মাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন হোগলবেড়িয়ার রথীন মণ্ডল। তিনি বলেন, রাতে মায়ের অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ওষুধ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ওষুধ কিনতে গিয়ে বাজারের কোনও ওষুধের দোকান খোলা পাওয়া যায়নি। সেদিন খুব অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল। করিমপুরের এক ওষুধ বিক্রেতা কিরন বিশ্বাস জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে হাসপাতালের সামনে ওষুধের ব্যবসা করছি। এলাকার বিশিষ্ট মানুষের অনুরোধে এবং রোগীদের সমস্যা সমাধানে ১৯৯৫ সাল থেকে আমি দিনের পাশাপাশি সারারাত ওষুধের দোকান খোলা রাখতাম। প্রথম কয়েক বছর একা ও পরের কয়েক বছর একজন কর্মচারীর সাহায্যে রাতের বেলায় দোকান খুলে রেখেছি। এভাবে প্রায় দশ বছর মানুষের পরিষেবা দিয়েছি। তারপর কয়েকজন ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে পালা করে রাতের বেলায় একেক জন একেকদিন ওষুধের দোকান খোলা রাখত। কিন্তু বছর পাঁচ-সাতেক আগে থেকে সেই ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। করিমপুরের আর এক ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, রাতের বেলায় দোকান খোলা রাখতে হলে নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। তার থেকেও বড় কথা বাড়তি টাকা দিয়ে একজন কর্মচারীকে দোকানে রাখতে হয়।



