সংবাদদাতা, বালুরঘাট: লাইসেন্স থাকলেও নেই ফার্মাসিস্ট। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে ওষুধের দোকানে হানা দিতেই একাধিক জায়গায় দেখা গেল এমন ছবি। অনিয়মের অভিযোগে ৯ জন ওষুধ ব্যবসায়ীর লাইসেন্স সাসপেন্ড করল জেলা ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ।
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: লাইসেন্স থাকলেও নেই ফার্মাসিস্ট। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে ওষুধের দোকানে হানা দিতেই একাধিক জায়গায় দেখা গেল এমন ছবি। অনিয়মের অভিযোগে ৯ জন ওষুধ ব্যবসায়ীর লাইসেন্স সাসপেন্ড করল জেলা ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ।
বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে,লাইন্সেস নেওয়ার ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। দেখা যাচ্ছে বছর ঘুরতেই ফার্মাসিস্টকে ব্যবসায়ীরা আর রাখছেন না। ভুয়ো লাইসেন্স ঝুলিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। পাশাপাশি, ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ধরেছেন আধিকারিকরা।
অভিযোগ, জেলাজুড়ে প্রচুর ওষুধের দোকানের লাইসেন্স রয়েছে। তার প্রায় দ্বিগুণ দোকান চলছে লাইসেন্স ছাড়া। জেলা ড্রাগ কন্ট্রোলার বিবেক মৈত্র বলেন, আমরা জেলাজুড়ে ওষুধের দোকানগুলিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। বুধবার গঙ্গারামপুরে কয়েকশো দোকানে অভিযান চালিয়েছি। অনিয়ম করায় ৯ জন ব্যবসায়ীর লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছি।
বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট আ্যাসোসিয়েশনের (বিসিডিএ) বালুরঘাট জোনের সভাপতি সঞ্জিত সাহা বলেন, আমরা চাই এই অভিযান লাগাতার চলুক। যেভাবে লাইন্সেস ছাড়া দোকানের সংখ্যা বেড়েছে, তাতে রোগীদের কথা মাথায় রেখে এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে না সংগঠন।
জানা গিয়েছে, ওষুধের দোকান চালাতে গেলে ফার্মাসিস্ট রাখা বাধ্যতামূলক। ফার্মাসিস্টের কাজ হল ওষুধের খুঁটিনাটি যাচাই করে নেওয়া, ক্রেতাকে ওষুধের নির্দেশিকাগুলি বুঝিয়ে বলা, ঠিকঠাক ওষুধ দেওয়া হচ্ছে কিনা সেসব দেখা। কিন্তু বাস্তবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে ৭০ শতাংশ দোকানেই ফার্মাসিস্ট নেই বলে অভিযোগ। লাইন্সেস ঝুলিয়ে রাখলেও ফার্মাসিস্টদের দেখা মেলে না। টাকা দিয়ে তাঁদের রাখতে চান না বেশিরভাগ ওষুধ ব্যবসায়ী। বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর শহরের পাশাপাশি গ্রামগঞ্জে দোকান ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বালুরঘাট ব্লকে সবচেয়ে বেশি লাইন্সেসহীন ওষুধের দোকান রয়েছে বলে অভিযোগ। সাধারণ কর্মীরা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দিচ্ছেন। সেভাবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাঁদের দিয়ে চলছে দোকান। ফার্মাসিস্ট রাখতে মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। সেজন্য অধিকাংশ ব্যবসায়ী ফার্মাসিস্ট রাখছেন না।
বিসিডিএ’র অভিযোগ, বেশি ছাড় দিয়ে যেসব ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, তার বেশিরভাগ জাল। ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তর ধরপাকড় শুরু করতেই একাধিক এলাকায় বেআইনিভাবে চলা ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা হচ্ছে।