নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উত্তরপ্রদেশের কয়েক হাজার কারখানায় তৈরি হচ্ছে নেশার সিরাপ। সেখান থেকে তা বাংলায় পাচার করছে ‘ইউপি মাদক’ গ্যাং। এক সময় এই সিরাপ শুধু বাংলাদেশে যেত। এখন এরাজ্যের মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার বহু যুবক এই সিরাপের নেশায় বুঁদ হচ্ছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সংস্থার ওই সিরাপ এরাজ্যে অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। কোথাও তা তৈরি হয় না। কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের মাদক কারবারিরা দেদার এই সিরাপ তৈরি করছে। অন্য রাজ্যে সেটির তেমন চাহিদা নেই। কিন্তু, এরাজ্যের যুবকরা সিরাপের নেশায় আসক্ত হওয়ায় চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। নিষিদ্ধ সিরাপ ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ পাচার করতে পারলে অবশ্য এর দাম অনেক বেশি পাওয়া যায়। সেই কারণেই কারবারিরা প্রতিদিনই বহু সিরাপের বোতল সীমান্তের ওপারে পাঠাচ্ছে।
কীভাবে এই পাচার সিন্ডিকেটে সক্রিয় রয়েছে? এক আধিকারিক বলেন, উত্তরপ্রদেশের মাদক কারবারিদের বহু এজেন্ট এরাজ্যে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, মালদহ এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। উত্তরপ্রদেশের মাদক গ্যাং পণ্যবাহী ট্রাক বা লরির মাধ্যমে এই সিরাপ এরাজ্যে পাঠাচ্ছে। আসানসোল হয়ে তা পানাগড়ে আসছে। সেখানে ফাঁকা কোনও জায়গায় গাড়ি বদল হয়। অনেক সময় পানাগড় হয়ে সিরাপ ভর্তি গাড়ি মুর্শিদাবাদ, মালদহে চলে যায়। কখনও কখনও বর্ধমান, কাটোয়া হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যায়। বহুবার পুলিস সিরাপ ভর্তি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। একশোর বেশি মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের জেরা করেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন সিরাপ তৈরির কারখানার তথ্য গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে।
আরএক আধিকারিক বলেন, কয়েকবার উত্তরপ্রদেশ পুলিসকে তথ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও কারখানাগুলি চালু রয়েছে। এই ধরনের সিরাপ তৈরি করতে বেশি খরচ হয় না। অথচ লাভ অনেক বেশি পাওয়া যায়। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মাদক কারবারিরা হাওলার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে। ক্যারিয়াররা হামেশাই গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু, চক্রের মাস্টারমাইন্ডরা অধরা থেকে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে চার বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকজন মাদক কারবারি এই সিরাপ তৈরি করছিল। সীমান্তবর্তী এলাকাতেই তারা কারখানা তৈরি করেছিল। পুলিস এবং বিএসএফ যৌথভাবে ওই কারখানায় অভিযান চালায়। কয়েকজনকে পাকড়াও করা হয়। তারপর থেকে এরাজ্যে আর কোথাও সিরাপ তৈরির কারখানার হদিশ পায়নি পুলিস। তবে উত্তরপ্রদেশের কারবারিরা পুলিসের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সিরাপ এরাজ্যে ঢুকছে। যুবকরা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় আধিকারিকরা চিন্তায় রয়েছেন। এই সিরাপের কারবার বন্ধ করার জন্য দুই বর্ধমানের মধ্যে কোনও এক জায়গায় গোয়েন্দারা নতুন আরও একটি অফিস তৈরির পরিকল্পনা করছেন।