Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পালাবদল হতেই ‘ড্রাগস হাব’ থেকে উধাও মাদক কারবারিরা

শিলিগুড়ি শহর ও মহকুমা এলাকায় মাদক কারবারিদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ভোটের আগে বহুবার সরব হয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা

পালাবদল হতেই ‘ড্রাগস হাব’ থেকে উধাও মাদক কারবারিরা
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি শহর ও মহকুমা এলাকায় মাদক কারবারিদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ভোটের আগে বহুবার সরব হয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তন হতেই ‘ড্রাগস হাব’ মাটিগাড়ার বিশ্বাস কলোনির মাদক কারবারিরা তল্পিতল্পা গুটিয়ে এলাকাছাড়া! লাগাতার অভিযানে নেমেও তাদের টিকি পাচ্ছে না পুলিশ। বিশ্বাস কলোনিকে মাদকমুক্ত করার লড়াইয়ে রীতিমতো কোমর বেঁধে আসরে নেমেছেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ কর্তারা। এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের নম্বর। মাদকের কারবার চলছে, এমন খবর পেলে পরিচয় গোপন রেখে ওই নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে। 

Advertisement

এই কাজ কড়া হাতে দমন করা হবে বলে পুলিশের ‘নারকোটিকস কন্ট্রোল’-এর বিশেষ দলের সদস্যরা জানিয়েছেন। শুধুমাত্র মাটিগাড়ার বিশ্বাস কলোনি নয়, শিলিগুড়ি শহর সহ গ্রামীণ এলাকায় পুলিশ তাদের সেই ফোন নম্বর ৮৫৯৭৯৮৮০০২ বিলি করছে। পুলিশ কর্তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন করে জানালেই তাদের টিম ঘটনাস্থলে হানা দেবে। 
এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘অল আউট’ অভিযানে নেমেছি। সাধারণ মানুষকে এই কাজে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। আমরা একটি বিশেষ নম্বর সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছি। সেই নম্বরে যেকেউ পরিচয় গোপন রেখে খবর দিতে পারেন। আমরা অভিযান চালাব। 
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, আমরা আগাগোড়াই বলে আসছিলাম মাদকের কারবার চলতে দেব না। আমাদের সরকার আসার পরেই পুলিশ নিজের উদ্যোগে এই কাজ করায় আমি তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আরও অভিযান চলাতে হবে। 
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে মাটিগাড়ার বিশ্বাস কলোনি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের হাব বলে পরিচিত। মাটিগাড়া থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই এই এলাকা। মালদহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক নিয়ে এসে এখানে হাতবদল করার সময় গত কয়েক মাসে প্রচুর লোক ধরা পড়েছে। এমনকী মহিলারাও গ্রেপ্তার হয়েছে। তারপরেও এই অসাধু কারবার বন্ধ হয়নি। তবে সরকার বদল হতেই এই ব্যবসার সঙ্গে যারা মূলত জড়িত এবং অতীতে জেল খেটেছে তাদের আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। 
যুব সমাজের একাংশ আশেপাশে থাকা জঙ্গল কিংবা ঘুপচি জায়গায় ব্রাউন সুগারের পুরিয়া নিচ্ছে, এমন ছবি ছিল নিত্যদিনের। আর মাদকের টাকা জোগার করতে পথচলতি মানুষের মোবাইল, ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা বহুবার হয়েছে। এলাকার মানুষের দাবি, লাগাতার অভিযান চালালে মাদকের কারবার গোড়া থেকে নির্মূল হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ