নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়ার শিক্ষাদপ্তরের অফিস চত্বরে এক নেশাগ্রস্ত যুবকের হাতে আক্রান্ত হলেন মহিলা করণিক। মাদকাসক্ত ওই যুবকের হামলায় মুখ ফেটে রক্তাক্ত হন ওই মহিলা করণিক। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে। নীলাঞ্জনা মল্লিক নামের ওই মহিলা করণিকের আর্ত চিৎকারে শিক্ষাদপ্তরের অন্যান্য কর্মী ও কর্তারা চলে আসেন। স্থানীয় লোকজনও জমা হয়ে যায়। তাঁরাই ওই যুবককে ধরে ফেলেন। পরে পুলিস এলে তাকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আক্রান্ত মহিলা করণিককে দ্রুত চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই মহিলা কর্মী চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় সরকারি কর্মিমহলে ও স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কর্মীদের একাংশ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
চুঁচুড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম সমীর সাহানি। জেরার মুখে সে একাধিক ঠিকানার কথা বলেছে। সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত ওই মহিলা জানিয়েছেন, তিনি চন্দননগরে শিক্ষাদপ্তরে কাজ করেন। অতীতে বহুবার তিনি দুপুরের দিকে জেলা অফিসে এসেছেন। এদিন দুপুরেও কিছু কাজ নিয়ে এসেছিলেন। অফিসে ঢোকার সময় দেখেন, নতুন শিক্ষাভবনের সামনে বসে ভরদুপুরে গাঁজা টানছে এক যুবক। তাকে ওই অবস্থায় দেখে ওখান থেকে চলে যেতে বলেন তিনি। এতেই চটে যায় ওই নেশাখোর। সে তখন পাল্টা অশ্রাব্য কথা বলতে শুরু করে। নীলাঞ্জনাদেবী বলেন, এরপর ওই যুবক আচমকা তাঁর উপর হামলা চালায়। মারধর করে। মুখ ফাটিয়ে দেয়। ততক্ষণে অন্যান্য কর্মী চলে আসায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। এ নিয়ে ডিআই (প্রাইমারি) দীপঙ্কর রায় বলেন, আমাদের অফিস চত্বরে রাতবিরেতে নেশাগ্রস্তদের আড্ডার কথা শুনেছিলাম। বিষয়টি পুলিসকেও জানিয়েছিলাম। কিন্তু দিনেদুপুরে এমন ঘটনা ঘটবে, ভাবতে পারছি না। দেখা যাক, পুলিস কী পদক্ষেপ করে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় বিরাট এলাকাজুড়ে দু’টি অফিস ভবন আছে। সামনে আছে মাঠ। রাতবিরেতে সেখানে নিয়মিত নেশাখোরদের আসর বসে। পুলিস মাঝেমধ্যে হানা দিলেও নেশার আসর বন্ধ হয়নি।