সংবাদদাতা, করিমপুর: বাংলার বাড়ির ঘর তৈরির আর্জি নিয়ে উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন করিমপুর ১ বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী। গত ডিসেম্বর মাসে টাকা পাওয়ার পরেও যারা এখনও ঘর তৈরি শুরু করেননি, তাঁদের বোঝাতে ছুটির দিনগুলোতে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুর ১ ব্লকের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৭৫৪ উপভোক্তা বাংলার বাড়ির টাকা পেয়েছেন। গত ডিসেম্বরেই প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ওই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। তার পরে দুই মাস কেটে গিয়েছে। অথচ এলাকার অনেকেই এখনও ঘর তৈরিতে হাত লাগাননি। প্রথম পর্বে আবাস যোজনা প্রকল্পে কাজের কেমন অগ্রগতি, সেই বিষয়ে তদারক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা এবং মহকুমা প্রশাসনকে। মে মাসের মধ্যে যাতে প্রথম দফার কাজ শেষ হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে। কারণ জুন মাসে উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির বাকি ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। করিমপুর ১ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি সৌমিক সরকার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছে রাজ্যের সব মানুষের মাথার উপর ছাদ হোক। সেই উদ্দেশ্যে আবাস যোজনায় খরচের ৬০ শতাংশ কেন্দ্রীয় বরাদ্দের টাকা না আসার পরেও রাজ্যের ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির বরাদ্দ টাকা দিয়েছে। জুন মাসে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা তাদের দেবে রাজ্য। এছাড়াও এক বছরের মধ্যে নতুন আরও ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাই সঠিক সময়ে ঘর তৈরির কাজ না হলে পিছিয়ে যাবে। মানুষ যাতে এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান তার জন্য বিডিও উপভোক্তাদের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। এটা খুব ভালো উদ্যোগ। শিকারপুর পঞ্চায়েতের প্রধান অনুপ বিশ্বাস বলেন, এই পঞ্চায়েতে মোট ৩৩০ জন আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন। তার মধ্যে ৮ জন এখনও ঘরের কাজ করেননি। এদের কয়েকজনের জমির সমস্যা থাকায় কাজ না করলেও কিছু উপভোক্তা ইচ্ছাকৃত ভাবে কাজ করছেন না। খুব শীঘ্র ঘর তৈরি করার জন্য তাদের জানানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপভোক্তা বলেন, টাকা আসার পর রাজমিস্ত্রির মজুরি এবং ইমারতি সরঞ্জামের দাম বেড়ে গিয়েছে। সেই কারণে ক’ দিন পর করব ভেবেছিলাম। করিমপুর ১ বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী জানান, ব্লকের প্রায় ত্রিশজন উপভোক্তার কাজ বাকি রয়েছে। আমি ছুটির দিনে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। তাদের কেউ কেউ বাইরে রয়েছেন। সবাইকে বলা হয়েছে, কাজ না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।



