সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বন্দে ভারত ছাড়া অন্য ট্রেন প্রায়ই দেরিতে এসে পৌঁছচ্ছে পুরুলিয়া স্টেশনে। ফলে নিত্যদিন পুরুলিয়ার রেলযাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের অপেক্ষায় স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেককে দেরির কারণে সেদিনের ট্রেনযাত্রা বাতিলও করতে হচ্ছে। স্টেশন ঝা চকচকে করা শুরু হলেও প্রায়দিনই ট্রেন দেরিতে আসায় নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে। পুরুলিয়া শহরের আমডিহার বধূ মনশ্রী দরিপা পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। রবিবার রাতে পুরুলিয়া থেকে হাওড়া যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরতে যান। রাত ৯টা ৫ মিনিটে পুরুলিয়া থেকে ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ট্রেন পুরুলিয়া স্টেশনে এসে পৌঁছয় রাত সাড়ে ১২টায়। ফলে প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি হাওড়া পৌঁছয়। মনশ্রীদেবী বলেন, সকালে হাসপাতালে ডিউটি। ট্রেন দেরি না করলে ঠিক সময়ে কাজে যোগ দিতে পারতাম। কিন্তু তা হল না। পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা শ্যামল দরিপা বলেন, এই জেলার প্রতি রেলের কেন এত অবহেলা-তা বুঝতে পারি না। বেশিরভাগ যাত্রীবাহী ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে প্রায় তিন-চারঘণ্টা দেরিতে যাওয়া-আসা করে। সবার পক্ষে তো বন্দে ভারতে যাওয়া-আসা করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কেউ যদি টিকিট ক্যানসেল করতে চান, সেটাও করা যায় না। মানুষের সময়ের কি কোনও মূল্য নেই রেলের কাছে? এবার একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার সময় এসেছে। শুধু হাওড়া-চক্রধরপুর ট্রেন নয়, রূপসী বাংলা ট্রেনও দেরি করছে। রবিবার এই ট্রেনটি তিন ঘণ্টারও বেশি দেরিতে পুরুলিয়া আসে। পুরুলিয়া থেকে ট্রেন ছাড়তেও দেরি হয়। স্টেশন সূত্রের খবর, হাওড়া-চক্রধরপুর ট্রেনটি হাওড়া থেকে রবিবার সকাল ৬ টা ২৫ নাগাদ পুরুলিয়া স্টেশনে আসার কথা ছিল। ট্রেনটি পুরুলিয়া পৌঁছয় দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে। চক্রধরপুর থেকে পুরুলিয়া ফেরার সময় রাত ৮টা ৫৭ মিনিট। কিন্তু ট্রেনটি পুরুলিয়া স্টেশনে আসে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে। অভিযোগ, পুরুলিয়া সঙ্গে হাওড়ার যোগাযোকারী ট্রেনের সংখ্যা এমনিতেই কম।



