সংবাদদাতা, বেলদা: প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো কেশিয়াড়ি ব্লকের সাঁতরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওলদা গ্রামের ‘ওলদা চণ্ডী’ মেলা। পৌষ সংক্রান্তিতে মকর সংক্রান্তিতে মন্দির কিংবা নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসে মেলা। দিনের বেলাতেই হয় এই মেলা। সন্ধের আগেই শেষ করতে হয় মেলা। জনশ্রুতি রয়েছে রাতে থাকলে দেবী চণ্ডী কূপিত হন। প্রাচীন এক বটগাছের নীচে অবস্থান এই লৌকিক দেবীর। তবে এখানে কোনও মন্দির নেই। প্রাচীন বটগাছকে কেন্দ্র করে বছর বছর মেলা হয়ে আসছে ওলদাতে। বটগাছের নীচেই চলে চণ্ডীর আরাধনা। দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ বিশ্বাস নিয়ে চলে আসেন ওলদা চণ্ডীর কাছে। মানত করেন, পুজো দেন। পুজোয় নানা উপাচারের মধ্যে থাকে মাটির হাতি, ঘোড়া। যা পুজোর আসল নৈবেদ্য। মানত করা হয় মাটির হাতি, ঘোড়া দিয়ে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ওলদা চণ্ডী দেবী নাকি খুব জাগ্রত। ভক্তের প্রার্থনা রাখেন। তাই নতুন চালের পায়েস, খিচুড়ি ও অন্যান্য ভোগ দেওয়ার জন্য মানুষ ভিড় করে মকর সংক্রান্তির দিন। পায়রা ছাড়ার রেওয়াজও আছে এই মেলায়। এই মেলাকে ঘিরে আদিবাসী তথা মূলবাসী মানুষদের অংশগ্রহণ থাকে বেশি। মেলা মানেই মিলনক্ষেত্র। সব ধর্মের মানুষ এই মেলায় অংশ নেন, পুজো দেন। প্রাচীন ঐতিহ্য যেমন আছে, তেমনি রয়েছে অনেক কিংবদন্তি। জনশ্রুতি সন্ধের আগেই মেলা ও পুজো শেষ করতে হয়। নইলে চণ্ডী নাকি ক্ষুণ্ণ হন। তিন গ্রামের মাঝে বটগাছ। পাশেই রয়েছে পাথরের কুয়ো। সেই জল ব্যবহার করেন ভক্তরা। মেলার দোকানপাটের পসরাও বেশ। নানা সামগ্রী বিক্রি হয় দোকানগুলিতে।
Advertisement
চণ্ডী মূলত অনার্য দেবী। তবে ব্রাহ্মণরাই পুজো করেন। শুধু মকর সংক্রান্তির দিন নয়, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার পুজো দেওয়ার রীতি আছে। তবে কীভাবে এই পুজো শুরু হল, তা বিশদে জানাতে পারেননি পুরোহিতেরা। মূল পুরোহিত দুর্গাপদ মিশ্র বলেন, বংশপরম্পরায় আমরা এই দেবীর পূজা করে আসছি। লৌকিক আচার মেনে পুজো হয়ে থাকে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষজন তাদের মনস্কামনা পূরণ করতে এখানে উপস্থিত হন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে এই মেলা।
কথিত রয়েছে, সূর্যাস্তের পর এখানে থাকলে দেবী ক্রোধিত হন। এবারে মঙ্গলবার পৌষ সংক্রান্তি পড়ায় এদিন ভোর থেকে মেলাতে ভিড় জমান অগণিত পুণ্যার্থী। সারি সারি হাঁড়ি বসিয়ে শুরু হয় ভোগের খিচুড়ি ও পায়েস রান্না। মেলায় আসা এক পুণ্যার্থী প্রদীপ শাসমল বলেন, প্রতিবছরই এখানে এসে মানত করি। মা ওলদা চণ্ডী খুবই জাগ্রত। পুজো দিয়ে হাতেনাতে তার ফল পাই।-নিজস্ব চিত্র
কথিত রয়েছে, সূর্যাস্তের পর এখানে থাকলে দেবী ক্রোধিত হন। এবারে মঙ্গলবার পৌষ সংক্রান্তি পড়ায় এদিন ভোর থেকে মেলাতে ভিড় জমান অগণিত পুণ্যার্থী। সারি সারি হাঁড়ি বসিয়ে শুরু হয় ভোগের খিচুড়ি ও পায়েস রান্না। মেলায় আসা এক পুণ্যার্থী প্রদীপ শাসমল বলেন, প্রতিবছরই এখানে এসে মানত করি। মা ওলদা চণ্ডী খুবই জাগ্রত। পুজো দিয়ে হাতেনাতে তার ফল পাই।-নিজস্ব চিত্র



