Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’দশক আগের বিএসএফ-বিডিআরের সংঘর্ষের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে শুকদেবপুর

দু’দশক আগের বিএসএফ-বিডিআরের সংঘর্ষের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে শুকদেবপুর
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সন্দীপন দত্ত, মালদহ: দুই দশক আগের বিএসএফ-বিডিআরের সংঘর্ষের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে শুকদেবপুর। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সেসময় পুরাতন মালদহ ও হবিবপুরে বিএসএফ-বিডিআরের গুলির লড়াই হয়েছিল। এবারেও মালদহের শুকদেবপুর সীমান্তে তৈরি হয়েছে কার্যত একই পরিস্থিতি। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, শুক্রবার থেকে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশি সেনার উপস্থিতিও চোখে পড়েছে। এনিয়ে সীমান্ত গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। 
Advertisement
রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলির মধ্যে মালদহ অন্যতম। এই জেলার সীমান্ত গ্রাম বরাবরই স্পর্শকাতর। ২০০৫ সালের আগস্টে মালদহের বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ এবং তৎকালীন বিডিআরের মধ্যে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, দেশের সীমান্ত রক্ষায় বিডিআরের সঙ্গে গুলির লড়াই হয় বিএসএফের। সেবারে পুরাতন মালদহ ব্লকের আদমপুর, মুচিয়া এবং হবিবপুরের ঋষিপুর সীমান্তের সমস্যা নিয়ে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। বাঙ্কার তৈরি করে তাতে আশ্রয় নেন বিএসএফ জওয়ানরা। টানা ৮ থেকে ১০ দিন ধরে চলে গুলির লড়াই।
কুড়ি বছর পর আবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদহের কালিয়াচক-৩ ব্লকের বৈষ্ণবনগরের বাখরাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকদেবপুরে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের সরকার ছিল বিএনপি-জামাত জোটের হাতে। সেই সময়ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মিত্রতার সম্পর্কে চিড় ধরেছিল। এবার বাংলাদেশে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়েছে। নানা কারণে ফের ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্কে চিড় ধরেছে। 
২০০৫ সালে কাঁটাতারের সীমানা তৈরির কাজ শুকদেবপুরে এসে বন্ধ হয়ে যায়। সামনে মরা গঙ্গা নদীর বিস্তৃত জলাশয়ের কারণে সেই সময় আর কাঁটাতারের বেড়ার কাজ এগয়নি। বর্তমানে মরা গঙ্গাকে পাশ কাটিয়ে পুরনো কাঁটাতারের বেড়ার বেশ কিছুটা সামনের দিকে নতুন করে মাটি ফেলে উঁচু রাস্তা করা হয়েছে। ওই রাস্তার উপরেই কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করে বিএসএফ। বিজিবি’র বাধার মুখে সেই কাজ এখন পুরোপুরি থমকে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাঁটাতার বিহীন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিরা ভারতীয় গ্রামে চুরি করে। ভারতীয় চাষিদের জমির ফসল লুট করা থেকে শুরু করে অবাধ চোরাচালান এমনকী মাদক পাচার ও জালনোটের কারবার চালাচ্ছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। 
চোরাচালানোর অবারিত দ্বার মালদহের শুকদেবপুর। বিশেষ করে শীতের সময় কুয়াশার সুযোগে এবং বর্ষার সময় মরা গঙ্গা নদীতে জল বৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিরা চোরাচালান চালায়। সুখদেবপুরের ওপারে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানা এলাকা। শুকদেবপুর থেকে সবদলপুর পর্যন্ত ১২০০ মিটার সীমান্তে কোনও কাঁটাতার নেই। উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে ইতিমধ্যেই জমি কিনে সিপিডব্লুডিকে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। 
সোমবার থেকে কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করে সিপিডব্লুডি। কিন্তু বিএসএফকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু হতেই আপত্তি তোলে বিজিবি। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাঙ্কার তৈরি করে তাতে আশ্রয় নেয় বিজিবি। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে বিজিবি’র বাঙ্কারে বাংলাদেশি সেনা জওয়ানদের দেখা যাচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন ওপার থেকে ক্রমাগত উস্কানিমূলক ভারত বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে বাংলাদেশিরা। এদিকে, বিএসএফ কোনও প্ররোচনায় পা না দিলেও সতর্ক রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ