Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’বারেরই টাকা তুলে খরচ, ফেরাতে অনীহা 

দু’বারেরই টাকা তুলে খরচ, ফেরাতে অনীহা 
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, কেন ফেরত দেব?’ দু’বার টাকা পেয়ে সটান জবাব এক ছাত্রের অভিভাবকের। মুখ্যমন্ত্রী টাকা দিয়েছে, ওই টাকায় ছেলেকে ভালো ফোন কিনে দেবেন বলে জানালেন নওদার এক পড়ুয়ার অভিভাবকও। ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ১০হাজার টাকা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি সেই টাকা শিক্ষাদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রেজারি থেকে দেওয়া হয়। গত সপ্তাহেই সেই টাকা পড়ুয়াদের পাঠানো হয়। মুর্শিদাবাদের ১লক্ষ ৫ হাজার ৮১৩ জন পড়ুয়ার ট্যাব কেনার জন্য টাকা পাওয়ার কথা। জেলার ৪৮৪১ জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে দু’বার করে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পর এখন মাথায় হাত শিক্ষাদপ্তরের। যার ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৪কোটি ৮৪লক্ষ টাকা ঢুকে গিয়েছে পড়ুয়াদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে। এবার প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সেই টাকা ফেরানোর জন্য ‘চাপ’ দিচ্ছে শিক্ষাদপ্তর। বিদ্যালয় পরিদর্শক অমরকুমার শীল প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য নোটিস দিয়েছেন। শিক্ষাদপ্তরের ভুলের জেরে দু’বার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে বলে মত প্রধান শিক্ষকদের। সেই দায়ভার এখন কেন প্রধান শিক্ষকরা বহন করবেন, সেই নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। 
Advertisement
ট্যাবের টাকার জন্য ছাত্রদের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি নির্ভুলভাবে আগেই শিক্ষাদপ্তরের এসআইদের কাছে পাঠিয়ে দেয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। ডিআই গোটা জেলার তালিকা পরীক্ষা করে রাজ্য শিক্ষাদপ্তরের কাছে পাঠানোর পর ট্যাবের টাকা এসেছে ট্রেজারিতে। সেখান থেকে ডিআইয়ের অনুমতি সাপেক্ষে টাকা ছাড়া হয়েছে। তারপরেও জেলার বহু পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। সেই টাকা চলে গিয়েছে ভিন রাজ্যের কিছু অ্যাকাউন্টে। সালারের একটি বিদ্যালয়ের টাকা বিহারের ভাগলপুরের বেশ কিছু অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু, কেন এমন হল? উত্তর নেই শিক্ষাদপ্তরের কাছে। পাশাপাশি জেলার প্রায় পাঁচ হাজার পড়ুয়াকে দু’বার করে টাকা পাঠানোয় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। 
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ইতিমধ্যেই শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাতেই ঘুম উবেছে জেলা শিক্ষাদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের। কী করে এত বড় ভুল হল, উত্তর খুঁজতে তৎপর জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অমরকুমার শীলকে মঙ্গলবার তলব করেন এক অতিরিক্ত জেলাশাসক। দীর্ঘক্ষণ ধরে তিনি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। কালেক্টরেট বিল্ডিং থেকে এদিন সন্ধ্যায় বেরনোর পর অমরবাবুকে এ ব্যাপারে বারবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি বলেন, ‘নো কমেন্ট।’
জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শফিউজ্জামান শেখ বলেন, একটা বড় কিছু গোলযোগ হয়েছে। শিক্ষাদপ্তরের আরও একটু দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। বহু স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই দু’বার করে যাওয়া টাকা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু, পড়ুয়াদের অনেকেই সেই টাকা তুলে ফেলায়, আদৌ কতটা সেই টাকা স্কুলের কাছে ফিরবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে পড়ুয়ারা এখনও ট্যাবের টাকা পায়নি, তাদের অ্যাকাউন্টে আগে টাকা পাঠানো দরকার। তারপর এবিষয়ে তদন্ত হোক। 
জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, এদিন ডিআইকে তলব করে গোটা বিষয়টি শোনা হয়েছে। যে সমস্ত পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে দু’বার টাকা গিয়েছে, সেই সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ডিআই চিঠি করেছে। আমরা ব্যাঙ্ককেও অনুরোধ করেছি যাতে দু’বার টাকা যাওয়া অ্যাকাউন্টগুলিকে ফ্রিজ করা যায়।
 
সম্পর্কিত সংবাদ