নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: দু’ বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার কাজ। ভাঙাচোরা রাস্তায় নিত্যদিন দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। ধুলোয় ভরছে বাড়িঘর। সমস্যায় জেরবার ঝাড়গ্রাম ব্লকের রাধানগর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। এদিকে প্রকল্পের বোর্ডে লেখা কাজ শেষের তারিখ মুছে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় রাস্তার কাজ দ্রত শেষ না করা হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
রাধানগর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণনগর থেকে গঙ্গাধরপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিমি পিচের রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। আরআইডিএফ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে রাস্তার কাজটি হচ্ছে। জেলা পরিষদের জন প্রতিনিধিরা কাজ শুরুর দিন উপস্থিত থেকে আশ্বাস দিয়েছিলেন দ্রুত কাজ শেষ করার। সেই কাজ আজও শেষ হয়নি। মেদিনীপুর থেকে প্রতিদিন সব্জি বোঝাই গাড়ি এই পথে যাতায়াত করে। যানবাহন চলাচলের ফলে বাড়িঘর, স্কুল, গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধুলোয় ভরছে। নিত্যদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের বোর্ডে চব্বিশ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার উল্লেখ ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে সেই কাজ শেষ করতে না পেরে সেই তারিখ মুছে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, রাস্তা তৈরির সময় শ্রমিকরা ঠিকাদারের কাছে মাইনে না পেয়ে রাস্তায় ফেলা নুড়িপাথর বিক্রি করে দিয়েছিল। যার জেরে রাস্তা খানাখন্দে ভরে ওঠে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি। পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য হেমন্ত মাহাত বলেন, এই রাস্তা দিয়ে দুই জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। এই পথ দিয়ে অল্প সময়ে মেদিনীপুর যাওয়া যায়। এছাড়াও মানিকপাড়া, দহিজুড়ি এলাকার মানুষ এই পথ ব্যবহার করে। সাংসদকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত কাজ শেষ না করলে এলাকার মানুষ বাধ্য হবে আন্দোলনে নামতে। রাজডিহি গ্ৰামের বাসিন্দা আরতি মাহাত বলেন, যানবাহন চলাচলের সময় রাস্তার ধুলোয় ঘর ভরে যায়। জানলা, দরজা বন্ধ রাখতে হয়। কানাইলাল মাহাত বলেন, রাস্তা তৈরিতে যেসব শ্রমিক নিযুক্ত ছিল তাঁরা মাইনে না পেয়ে রাস্তার নুড়িপাথর বিক্রি করে দিয়েছিল। যারজেরে রাস্তায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। খড়িকাশুলি গ্ৰামের বাসিন্দা বুদ্ধশ্বর মাহাত বলেন, শ্রমিকরা আমাকে রাস্তায় ফেলার জন্য বিক্রি করতে এসেছিল। ওরা বলেছিল খাবার কেনার পয়সা নেই। জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি বলেন, রাস্তার কাজ কেন থমকে আছে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গেও আমরা কথা বলব।



