Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’ দিন পুজো পড়ায় হল না পুরোহিত ‘হা‌ইজ্যাক’, লক্ষ্মীলাভ হল পূজারীদের

দু’ দিন পুজো পড়ায় হল না পুরোহিত ‘হা‌ইজ্যাক’, লক্ষ্মীলাভ হল পূজারীদের
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বহরমপুর: সরস্বতী পুজো মানেই ওত পেতে পুরোহিত হাইজ্যাকিং। এক মণ্ডপের পুজো সেরে অন্য মণ্ডপের দিকে দৌড়চ্ছেন পুরোহিত। মাঝ পথে এক দল যুবক সেই তাঁর পথ আগলে কার্যত চ্যাঙদোলা করে তুলে নিয়ে গিয়ে নিজেদের মণ্ডপে বসালেন। দক্ষিণার অঙ্ক বাড়ানোর সঙ্গে থাকে চোখরাঙানি। বেগতিক বুঝে পুরোহিত পুজোয় বসেন। তারপরই বাগদেবীর আরাধনা পাশে ঠেলে শুরু হয় দু’ পক্ষের বাকবিতণ্ডা, কাজিয়া। বহুবার এর জল হাতাহাতি পর্যন্ত গড়িয়েছে। এবারই প্রথম সরস্বতী পুজোর তিথি দু’ দিনে পড়ায় পুরোহিত হাইজ্যাকিং হল না। নির্বিঘ্নে এবং নির্দিষ্ট সময়ে উদ্যোক্তাদের বাণীবন্দনায় কোনও ব্যাঘাত ঘটল না। পাশাপাশি পুরোহিতদের ঝুলিতে উপচে পড়ল মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ ।
Advertisement
স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে পাড়ায়, বাড়িতে সরস্বতী পুজো হয়। সরস্বতী পুজো যত হয়, পুরোহিতের সংখ্যা সে তূলনায় নগন্য। অনেকে আগাম বায়না দিয়ে পুরোহিত বুকিং করেন। পুরোহিতকুলও তাঁদের তালিকা দেখে নির্দিষ্ট একটা সময় দেন। আর যাঁরা পুরোহিত জোগাড় করতে পারেন না, তাঁরা বিপাকে পড়েন। উপায়ন্তর না পেয়ে তাঁরাই পুরোহিত হাইজ্যাক করার ছক কষেন। কোনও মণ্ডপের কাছাকাছি ওত পেতে অপেক্ষা করেন। পুজো শেষে পুরোহিত দক্ষিণা, নৈবেদ্য ব্যাগে গুছিয়ে পরের মণ্ডপে যাওয়ার পথেই বাধা পান। পুজো করে দেওয়ার আবদারে রাজি না হলে, অতঃপর চোখরাঙানি, শেষে বলপ্রয়োগ। 
এবার সেটা হল না। কারণ এবার রবিবার দুপুর থেকেই পঞ্চমী তিথি শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত পুজোর তিথি ছিল। ফলে একই দিনে এবার পুজোর চাপ অনেক কম ছিল। রবিবারই বহু পুজো হয়েছে। বাকিরা করেছেন সোমবার।
পুরোহিত বলরাম আচার্য বলেন, মাঝপথ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা বহুবারের। এবারই প্রথম চেনা ছক ভাঙল। অচিন্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায় দু’ দিনে চোদ্দটি মণ্ডপে ও চারটি বাড়িতে পুজো করেছেন বলে জানালেন। অচিন্ত্যবাবু বলেন, দু’ দিনে তিথি পড়ায় আমাদের পোয়া বারো। ভালো আয় হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ