নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কালীপুজোর প্রাক্কালে বেআইনি বাজির ব্যবসা নিয়ে সাবধানী পুলিশ। চোরাগোপ্তা নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিক্রি এবং তৈরি হওয়া ঠেকাতে এবার তারা প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চলেছে। ‘লোকাল সোর্স’ মারফত পাওয়া খবরের পাশাপাশি বেশকিছু চিহ্নিত এলাকায় তারা ড্রোন সার্ভে করতে চলেছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়েই নয়, আকাশপথেও নজরদারি চালাবে রানাঘাট জেলা পুলিশ।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। রানাঘাট পুলিশ জেলার অন্তর্গত কল্যাণী শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের রথতলা এলাকায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে একাধিক প্রাণহানি হয়। এরপর থেকেই বেআইনি বাজির তৈরির ব্যবসা নিয়ে সক্রিয় হয় পুলিশ। একাধিক জায়গায় অভিযান চলে। পুলিশ গত দেড় বছরে বিপুল পরিমাণ বাজি উদ্ধার করতেও সক্ষম হয়েছে। কালীপুজোর প্রাক্কালে আবার সেই বেআইনি বাজির ব্যবসা নিয়েই বাড়তি সাবধানী পুলিশ। তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কল্যাণী, গাংনাপুর, চকদহ, রানাঘাট এবং শান্তিপুরের মতো থানা এলাকাগুলিতে এরকম একাধিক অসাধু কারবারি রয়েছে। তারা পুলিশের নজর এড়িয়ে বেআইনি বাজির ব্যবসা জারি রেখে চলেছে। পুলিশ একাধিকবার সেই সমস্ত এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। তাতে বিপুল পরিমাণ বেআইনি বাজি উদ্ধারও হয়েছে। তা সত্ত্বেও নজরদারি এড়িয়ে বেআইনি বাজির ব্যবসা জারি রাখার সম্ভাবনাকে পুলিশ পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। তাই ইতিমধ্যে নতুন পদ্ধতিতে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোটামুটি সম্ভাব্য বেশকিছু এলাকার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় থানা এবং সোর্সের ভিত্তিতে এবার সেই সমস্ত চিহ্নিত এলাকায় আকাশপথে নজরদারি চলবে। ড্রোন উড়িয়ে দিনের যেকোনও সময় নজর রাখা হবে বেআইনি বাজির ‘হটস্পট’গুলিতে। শুধুমাত্র নিষিদ্ধ শব্দবাজি নয়, সরকারি ছাড়পত্র ছাড়া বাজি তৈরির ক্ষেত্রেও একইভাবে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
এবিষয়ে রানাঘাট জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, রানাঘাট পুলিশ বেআইনি বাজির ব্যবসা ঠেকাতে তৎপর। আমাদের কাছে খবর আসে। তার ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই। অভিযানে বাজি ধরা পড়ে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। তাই আমরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে এবার বেশ কিছু এলাকা চিহ্নিত করেছি। দিনের যেকোনও সময়ে সেখানে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হবে। তার ফলে আমরা অনেকটাই সুফল পাব বলে আমাদের আশা। বেশকিছু জায়গায় আমরা এই পদ্ধতিতে নজরদারি শুরু করেছি।