ইসলামাবাদ: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বিক্ষোভকারীদের উপর প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা চালাল সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনী। এর পরেই নিজেদের দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে ইজরায়েলি সেনার সঙ্গে তুলনা করছেন পাকিস্তানের নাগরিকদের একাংশ। বৃহস্পতিবার রাওয়ালকোটে পাক নিরাপত্তা বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত কমপক্ষে ২৩ জন। যদিও কয়েকজন পাকিস্তানি সাংবাদিকের দাবি, মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ১২। মৃতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে। পাক নাগরিকদের অভিযোগ, তাদের দেশের নিরাপত্তা বাহিনী আদতে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মতো আচরণ করছে। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে গাজায় পরিণত করেছে তারা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার ও সেনা প্রতিষ্ঠানের অবস্থানকে সমর্থন করে এসেছেন, তাঁদের একাংশই এবার নিজেদের দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টে সেই ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। আবু ধাবির বাসিন্দা কাশ্মীরি কর্মী সোহেব খান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতির সঙ্গে গাজার তুলনা করেছেন। তিনি নিজেও নিষিদ্ধ সংগঠন জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, ইসলামাবাদের সীমা বালি নিজেকে কাশ্মীরি পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থন এই হিংসার ঘটনায় ধাক্কা খেয়েছে। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘ঘটনার নিন্দা না করে পারছি না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ইজরায়েলি সেনার মতো আচরণ করছে।’
উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতৃত্বে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত গত জুন মাসে। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অভিযোগ তুলে পথে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য বিধানসভার ১২টি আসন সংরক্ষণ। শুরু থেকেই আন্দোলন থামাতে তৎপর পাকিস্তান। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধও ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভের আগুন।



