Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলগেটের যানজট মেটাতে পরিদর্শনে আসছেন ডিআরএম সহ আধিকারিকরা

বছরের পর বছর ধরে যানজটে জর্জরিত কৃষ্ণনগরের বেলডাঙা রেলগেট

রেলগেটের যানজট মেটাতে পরিদর্শনে আসছেন ডিআরএম সহ আধিকারিকরা
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বছরের পর বছর ধরে যানজটে জর্জরিত কৃষ্ণনগরের বেলডাঙা রেলগেট। একবার রেলগেট পড়লেই বেশ কিছুক্ষণের মধ্যে থমকে যায় শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। অফিস টাইম হোক বা হাসপাতালমুখী অ্যাম্বুলেন্স বেলডাঙা রেলগেটে আটকে পড়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সকলেরই রয়েছে। এবার দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হলেন কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর উদ্যোগেই চলতি সপ্তাহে এলাকা পরিদর্শনে আসছেন রেলের আধিকারিকরা। মঙ্গলবার অতিরিক্ত ডিআরএম তথা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিআরএমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বেলডাঙা রেলগেট ঘুরে দেখবেন বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

বিধায়ক তারকনাথবাবু বলেন, বেলডাঙা রেলগেট পরিদর্শন করতে মঙ্গলবার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিআরএম আসবেন। দেখা হবে, যাতে রেলগেটটা একটু চওড়া করা যায়। অবৈধ টোটোস্ট্যান্ডের কারণেও যানজট বাড়ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা হবে। আমি শিয়ালদহ ডিআরএমকে চিঠি দিয়েছিলাম। তাঁরা সেই চিঠিতে সাড়া দিয়েছেন।
কৃষ্ণনগর শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বেলডাঙা রেলগেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কৃষ্ণনগর থেকে শান্তিপুর সহ জাতীয় সড়ক ধরে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই রাস্তাই অন্যতম প্রধান ভরসা। পাশাপাশি শহরের বাসস্ট্যান্ড এবং কৃষ্ণনগর রেলস্টেশনের মধ্যে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই রেলগেট পার হতে হয়। ফলে রেলগেট একবার পড়লেই মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার দু’ধারে ছোট-বড় গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এই রাস্তা দিয়েই শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে যেতে হয়। ফলে রেলগেট পড়ে গেলে সংকটজনক রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও আটকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কথা জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
একসময় এখানে একটি রেলওভার ব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই প্রকল্প বর্তমানে কার্যত বিশবাঁও জলে। প্রশাসনিক জটিলতা, জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রকল্প থমকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিধায়ক তারকনাথবাবু। তিনি শিয়ালদহ ডিআরএমকে চিঠি দিয়ে সমস্যার কথা জানান। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই রেলের আধিকারিকদের এই পরিদর্শন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, পরিদর্শনের সময় রেলগেট সংলগ্ন রাস্তা চওড়া করা, যান নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প ট্রাফিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে শুধুমাত্র রেলগেট নয়, যানজটের নেপথ্যে আরও একাধিক কারণ উঠে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেলডাঙা রেলগেট চত্বরে গড়ে উঠেছে অবৈধ টোটো স্ট্যান্ড। দিনের অধিকাংশ সময়ই সেখানে সারিবদ্ধভাবে টোটো দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যায়।  তার উপর রাস্তার ধারে একাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণ হওয়ায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, শুধু রেলগেটের রাস্তা চওড়া করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, অবৈধ দখলমুক্ত এবং টোটো স্ট্যান্ড সরানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে সমস্যা থেকেই যাবে।  কৃষ্ণনগরের বেলডাঙা রেলগেট। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ